চকরিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা হত্যায় তিনজনের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ০৬ মার্চ ২০২২
ফাইল ছবি

কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হুদা হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে অপহরণের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিনজনসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৬ মার্চ) চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোজাম্মেল হক এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- আবু বকর ছিদ্দিক, ইউনুস হোসাইন মানিক, ইব্রাহিম মোস্তফা কাইয়ুম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সোহায়েত। খালাস পেয়েছেন শেফায়েত নামে এক আসামি।

নুরুল হুদা বদরখালী ইউনিয়নের তিন নম্বর ব্লকের মগনামাপাড়ার মৃত আবুল আহমদের ছেলে। তিনি ওই এলাকার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আবু বকর ছিদ্দিক, ইউনুস হোসাইন মানিক ও ইব্রাহিম মোস্তফা কাইয়ুম তার ভাতিজা। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া সোহায়েত নুরুল হুদার নিকটাত্মীয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩০ জুন রাতে নুরুল হুদা বদরখালী বাজারের ফেরিঘাটে একটি চায়ের দোকানে নাশতা করছিলেন। টিভিতে একটি সংবাদ প্রচারের সময় তিনি মন্তব্য করেন ‘রাজাকাররা দেশের শত্রু, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কোনো রাজাকারকে রেহাই দেবেন না’। এ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তার ভাতিজা ও স্থানীয় জামায়াতের কর্মী হিসেবে পরিচিত আবু বকর ছিদ্দিক।

এরপর ওইদিন রাতে নুরুল হুদাকে বদরখালী বাজারের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথের সামনে থেকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় ঘাতকরা। এর কয়েকঘণ্টা পর ইউনিয়নের তিন নম্বর ব্লকের টুটিয়াখালীপাড়া মুজিব কিল্লাহ এলাকায় নুরুল হুদাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে শাহজাহান বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আলোচিত মামলাটির তদন্ত শেষে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এছাড়া অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয় ১৮ জনকে। মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এর মধ্যে আদালত ১২ জনের সাক্ষী বিবেচনায় নেয়।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইয়ুব খান জাগো নিউজকে বলেন, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু নিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘাতকরা নিহত নুরুল হুদার ভাতিজা।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আদালত দুটি অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার করেন। একটি অপহরণ এবং আরেকটি হত্যা। হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপহরণের দায়ে ওই তিনজনসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া এক আসামির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান/একেআর/বিএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।