গুলশানে প্লট বরাদ্দে সাজাপ্রাপ্ত কুতুবের জামিন বাতিল চায় দুদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৯ পিএম, ১৭ জুলাই ২০২২

 

ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে শ্বশুর ও আত্মীয়-স্বজনদের নামে গুলশানে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দের মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে সেই জামিন বাতিলের বিষয়ে আপিল আবেদন প্রস্তুত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৭ জুলাই) জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

তিনি জানান, দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুতুব উদ্দিনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলের বিষয়ে আপিল আবেদন প্রস্তুত করেছি। সোমবার (১৮ জুলাই) সকালে আপিলটি দাখিল করার পর এ বিষয়ে আমরা চেম্বারজজ আদালতে শুনানির উদ্দ্যেগ নিবো।

গত ১৪ জুলাই ভুয়া আমমোক্তারনামার প্লট বরাদ্দের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কুতুব উদ্দিনকে ৬ মাসের জন্য জামিন দেন হাইকোর্ট। ওই দিন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের একক বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে ওই দিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান ও কুতুবের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ন।

এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দের মামলায় কুতুব উদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর গত ১৫ মার্চ নিম্ন আদালতে সাজার বিরুদ্ধে কুতুবের আপিল শুনানির জন্য নেন হাইকোর্ট।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল কুতুব উদ্দিনকে গ্রেফতার করে দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এর আগে, গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন মির্জা জাহিদুল আলম।

কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার একটি প্লট তার শ্বশুরসহ কয়েকজনের নামে বরাদ্দ করেন। শ্বশুর ও স্বজনদের নামে গুলশান অভিজাত এলাকায় সরকারি ১০ কাঠা জমি ক্রয় দেখিয়ে নিজেই বসবাস করার অভিযোগে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল গুলশান থানায় মামলা করে দুদক।

ওই মামলায় কুতুবের সঙ্গে নাজমুল ইসলাম সাঈদকেও আসামি করা হয়। একই বছরের ১২ এপ্রিল কুতুবকে বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কুতুব গুলশানে রাজউকের অধিগ্রহণ করা সাড়ে ১৬ শতাংশ (১০ কাঠা) জমি শ্বশুর ও অন্যদের নামে ক্রয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।

১৯৬৪ সালে গুলশান-বারিধারা আবাসিক মডেল টাউন সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য রাজউক ৩১ একর ১৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে এ জমি নিচু জলাশয় হওয়ায় রাজউকের জন্য অলাভজনক হবে বলে ১৯৬৯ সালে এ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

এরপর রাজউক পুনরায় ওই ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলে। এরপর ২০০৪ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ে ওই ভূমির ওপর রাজউকের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, কুতুব ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত থেকে প্রভাব বিস্তার করে কৌশলে এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাজউকের সম্পত্তি অবমুক্ত করে নাজমুল ইসলাম সাইদকে জমির ভুয়া আমমোক্তার সাজিয়ে এবং শ্বশুর আব্দুল জলিল মৃধাসহ আরও দুজনকে ক্রেতা সাজিয়ে নিজেই ১০ কাঠা জমি আত্মসাৎ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কুতুবের শ্বশুর আব্দুল জলিল মৃধার নামে ওই জমি ক্রয় করা হলেও তিনি কখনোই এ জমি ভোগদখল বা বসবাস করেননি। শুরু থেকেই কুতুব এই জমি ভোগদখল ও সেখানে সপরিবারে বসবাস করছিলেন।

এফএইচ/এমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।