ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুকূলে ভূমি বন্দোবস্ত অবৈধ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

বিল শ্রেণিভুক্ত ভূমি বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে ভূমির আগের রেকর্ড ফিরিয়ে আনা ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জারি করা রুল মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আজ রিট আবেদনকারী বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী। তাকে সহযোগিতা করেন বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না। ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভুঁইয়া।

এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর রিট করে বেলা। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রুলসহ নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন হাইকোর্ট।

রুলে ওই ‘বিল’ শ্রেণিভুক্ত ভূমিকে ‘পতিত’ হিসেবে পরিবর্তন এবং ‘বিল’ শ্রেণির ভূমি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়ার কার্যক্রম কেন সংবিধানবিরোধী, বেআইনি এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বৃহত্তর জনস্বার্থে ভূমিটির আগের রেকর্ড ফিরিয়ে আনা ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। ওই রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

বেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ৭৬ নম্বর চর রাজাবাড়ি মৌজায় ৪.২৩০০ একর ভূমি ‘বিল’ হিসেবে সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। কিন্তু বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উল্লেখিত ‘বিল’ শ্রেণিভুক্ত ভূমি অকৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালার আলোকে শ্রেণি পরিবর্তন করে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুকূলে বন্দোবস্ত দিতে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রস্তাব পাঠান। পরে শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত বিবিধ মোকাদ্দমা (১৫২০২০-২০২১) মূলে উল্লেখিত ভূমির শ্রেণি ‘বিল’ থেকে ‘পতিত’ হিসেবে পরিবর্তন করে রেকর্ড সংশোধন করা হয়। শ্রেণি পরিবর্তন করা ওই ভূমি নামমাত্র মূল্যে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুকূলে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দিতে জেলা প্রশাসক ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রস্তাব পাঠান।’

বেলার দাবি— দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী বিল জলাধারের অন্তর্ভুক্ত, যার শ্রেণি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। এ অবস্থায় বিলটি রক্ষার জন্য রিট করে বেলা।

এফএইচ/এমএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।