রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে রিটের এখতিয়ার ছিল না সংগঠনের : হাইকোর্ট
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্তির বিধান চ্যালেঞ্জ করে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’ যে রিট আবেদন করেছিল তা সঠিক ছিল না, অর্থাৎ ওই কমিটির এখতিয়ারই ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রিট খারিজের আগে এমন মন্তব্য করেন।
এর আগে রিট শুনানির উদ্দেশ্য করে আদালত বসার পর রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এসময় তিনি আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, এটা অনেক আগের মামলা। দুটি রুল হয়েছে। অনেক পুরোনো ম্যাটার। ১৯৮৮ সালের রিট। পরে দুটি সম্পূরক আবেদনের রুল হয়। এ জন্য আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন।
আইনজীবীর সময় আবেদনের প্রার্থনার পর আদালত বলেন, ঠিক আছে আপনি বসেন। আগে আমরা আবেদনকারীর আইনজীবীকে শুনবো। এরপর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খান, এবিএম নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী ইসলাম ধর্মের পক্ষে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নিয়ে দাঁড়ান।
এসময় আদালত বলেন, আপনারা বসেন। এখনো শুনানি শুরু হয়নি। আগে রিট আবেদনের আইনজীবীকে শুনবো। পরে পক্ষভুক্ত হওয়ার বিষয়।
এরপর আদালত আবেদনকারীর আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাকে আমরা দেখে আসতে বলেছিলাম ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’র পক্ষে এই রিটটি দায়েরের লুকাস্ট্যাডি (রিট করার আইনগত এখতিয়ার) ছিল কি না?
জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংগঠন ছাড়াও রিটটি আলাদাভাবে প্রত্যেকে আবেদনকারী হয়েছে। পরে আদালত বলেন, আমরা তো দেখছি এটি সংগঠনটির পক্ষেই রিট করা হয়েছে। তখন সুব্রত চৌধুরী বলেন, শুনানির সময় আমরা বিস্তারিত বলবো। সন্তোষকজনক জবাব দেবো।
আদালত বলেন, ওই সংগঠনের রিট করার লুকাস্ট্যাডি নেই। রিট খারিজ, রুল ডিসচার্জ। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় দেখবো কেন খারিজ হয়েছে। এরপর আপিল করবো।
মুরাদ রেজা বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম বহাল থাকার পাশাপাশি অন্য ধর্মের অধিকারও বহাল থাকলো। এটা সংবিধানেও রয়েছে। এখন সব কিছু বহাল রয়েছে।
এফএইচ/বিএ