চ্যাটজিপিটি গুগল ট্রান্সলেটকে টেক্কা দিতে অনুবাদে মনোযোগ দিচ্ছে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চ্যাটজিপিটি ভাষা অনুবাদে মনোযোগ দিচ্ছে

কোনো দেশে ঘুরতে গেলেন কিংবা ভিনদেশী কারো সঙ্গে কথা বলতে যেখানে একমাত্র বাঁধা ভাষা। সেখানে মুশকিল আসান আপনার ফোন, ফোনে থাকা গুগল ট্র্যান্সলেট অ্যাপ। যেখানে ২৪৯টি ভাষা অনুবাদ করে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে এবার চ্যাটজিপিটি গুগল ট্রান্সলেটকে টেক্কা দিতে ভাষা অনুবাদে মনোযোগ দিচ্ছে।

অনুবাদ পরিষেবার দুনিয়ায় গুগলের আধিপত্যে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়তে চলেছে ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট নামে নতুন এক অনুবাদ টুল নিয়ে বড় ঘোষণা করেছে স্যাম অল্টম্যানের সংস্থা। লক্ষ্য একটাই গুগল ট্রান্সলেটরের মতো প্রতিষ্ঠিত পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামা। এই ঘোষণার পর থেকেই প্রযুক্তি মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

২০২২ সালের নভেম্বরে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই চ্যাটজিপিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে আলোড়ন তুলেছে। শুরু থেকেই ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য ছিল গুগলের মতো টেক জায়ান্টদের টেক্কা দেওয়া। সেই পথেই একের পর এক নতুন ফিচার যুক্ত করছে সংস্থাটি। চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট সেই কৌশলেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন এই ট্রান্সলেশন টুলের উদ্দেশ্য কেবল ভাষান্তর নয়, বরং ব্যবহারকারীদের আরও স্বাভাবিক ও নির্ভুল অনুবাদ অভিজ্ঞতা দেওয়া। যদিও চ্যাটজিপিটিতে আগেও অনুবাদের সুবিধা ছিল, নতুন টুলে সেই অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে। ভাষার সঠিক অর্থ, ভাব এবং প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখাই হবে এই পরিষেবার মূল লক্ষ্য।

সংস্থার দাবি, চ্যাটজিপিটি ভাষা ব্যবহারে বরাবরই দক্ষ। এটি সঠিক ভাব ও সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা বজায় রেখে ৪০টিরও বেশি ভাষায় নির্ভুল অনুবাদ করতে পারে। চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট সেই সক্ষমতাকেই আরও সামনে তুলে ধরবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভাষা যুক্ত করার দিকেও কাজ চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওপেনএআই।

তবে গুগল ট্রান্সলেটরের সঙ্গে তুলনা করলে চিত্রটা এখনো একপাক্ষিক। বর্তমানে গুগল ট্রান্সলেট ২৪৯টি ভাষায় কাজ করে, যেখানে চ্যাটজিপিটি স্বচ্ছন্দ প্রায় ৪৭টি ভাষায়। সংখ্যার দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও, অনুবাদের মান ও প্রসঙ্গ বোঝার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি গুগলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

এআই প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। গত নভেম্বরে স্যাম অল্টম্যান নিজেই স্বীকার করেছিলেন, এই রেসে আপাতত গুগল এগিয়ে রয়েছে। তবে তাঁর দাবি ছিল, এই এগিয়ে থাকা স্থায়ী নয়। নতুন এই ঘোষণায় সেই আত্মবিশ্বাসই আবারও প্রতিফলিত হয়েছে।

ধরে নেওয়া যায়, চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট নিয়ে ওপেনএআইয়ের এই পদক্ষেপ অনুবাদ পরিষেবার বাজারে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে। ভবিষ্যতে গুগল ও ওপেনএআইয়ের এই লড়াই ব্যবহারকারীদের জন্য আরও উন্নত ও বুদ্ধিমান অনুবাদ প্রযুক্তি নিয়ে আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন
এআইকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক
চ্যাটজিপিটিকে যেসব প্রশ্ন ভুলেও করবেন না

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।