ভালো মেয়ে হওয়ার চাপ কীভাবে নারীদের শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

 

ছোটবেলা থেকেই অনেক মেয়েকে শেখানো হয় ভদ্র হও, তর্ক করো না, সবার মন রেখে চলো,সব কাজে হ্যাঁ বলো। সময়ের সঙ্গে এই অভ্যাসটাই যেন চরিত্রের অংশ হয়ে যায়। বাইরে শান্তি বজায় থাকলেও ভেতরে জমতে থাকে অপ্রকাশিত রাগ, অপূর্ণতা, ক্লান্তি,অদৃশ্য চাপ।

এই অবস্থাকেই সেলিব্রিটি হরমোন কোচ পূর্ণিমা পেরি ‘গুড গার্ল সিনড্রোম’ নামে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সবসময় ভালো থাকার চেষ্টাই অনেক সময় নারীদের রাগের চেয়েও বেশি অসুস্থ করে তোলে। কারণ চেপে রাখা আবেগ হারিয়ে যায় না তা শরীরের ভেতরে অন্যভাবে প্রকাশ পায়।

১. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও কর্টিসল বৃদ্ধি
যখন কেউ সবসময় অন্যকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন, তখন স্নায়ুতন্ত্র উচ্চ সতর্কতায় থাকে। ‘না’ বলা বা সীমা নির্ধারণ করা শরীরের কাছে অনিরাপদ মনে হয়। ফলে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন থাকলে ঘুমের সমস্যা, শক্তির ঘাটতি এবং ওজনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।

২. থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা
রাগ বা আত্মপ্রকাশ দমন করলে তা প্রায়ই গলার আশপাশে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের কণ্ঠস্বর চেপে রাখা এবং আবেগ দমন করার অভ্যাস থাইরয়েডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণাও আবেগ দমনের সঙ্গে হরমোনগত প্রভাবের সম্পর্ক তুলে ধরেছে।

৩. হজমের সমস্যা
অন্ত্র ও আবেগের মধ্যে গভীর সংযোগ রয়েছে। অন্ত্রকে বলা হয় ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। আবেগ ও হজম একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা আইবিএস-এর মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। হার্ভার্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চাপের সময় শরীর হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, কারণ তখন শক্তি অন্যদিকে ‘বেঁচে থাকার’ মোডে নিয়োজিত থাকে।

৪. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও ক্লান্তি
সবসময় মানিয়ে নেওয়া, নিজেকে চেপে রাখা এবং ‘ভালো’ থাকার চেষ্টা প্রচুর শক্তি খরচ করে। শরীর তখন বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের বদলে টিকে থাকার মোডে চলে যায়। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায়ও উল্লেখ রয়েছে এতে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, সহনশীলতা কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

৫. উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ
সবসময় ভালো থাকার চেষ্টা করলে নিজের সত্যিকারের অনুভূতি প্রকাশিত হয় না। নিজের সত্যিকারের অনুভূতিকে জায়গা না দিলে উদ্বেগ বাড়ে, মানসিক অবসাদ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি মনে হলেও ভেতরে জমতে থাকে মানসিক ক্লান্তি ও শূন্যতা।

নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা, সীমা টানা, প্রয়োজন হলে ‘না’ বলাই মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার অংশ। সবার কাছে ভালো হওয়ার চেষ্টার আগে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন:
অনলাইনে ভিডিও স্ক্রলিং আপনার একঘেয়েমি বাড়িয়ে দেয়, বলছে গবেষণা 
বেশি বেশি অভিযোগ করলে আপনার মস্তিষ্কে যা ঘটে 

এসএকেওয়াই/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।