বিএসটিআইয়ের সহযোগিতায় ঢাবির পানির গুণগত মান পরীক্ষা করবে ডাকসু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হল ও ক্যাম্পাসের খাবার পানির মান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সহযোগিতায় পানির গুণগত মান পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নেতারা এ তথ্য জানান।
ডাকসু নেতারা বলেন, হল ও ক্যাম্পাসের পানির সমস্যা সমাধানে তারা ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিশেষ করে কুয়েত মৈত্রী হলের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিএসটিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার, ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসু নেতারা জানান, কুয়েত মৈত্রী হলের পানির নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তারা বৃহস্পতিবার সেখানে যান। তবে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। খুব শিগগিরই জটিলতা দূর করে পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। নিরাপদ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করার পরই অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ডাকসু স্বাধীনভাবে পানির মান পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিএসটিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। খুব দ্রুতই পানির নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ শুরু হবে।
কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্য হল পরিদর্শনে গেলেও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি। অন্যদিকে ডাকসুর প্রতিনিধিরা রুমে রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং অসুস্থদের জন্য প্রাথমিক ওষুধের ব্যবস্থাও করেছেন।
ডাকসু নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রশ্নে তারা আপসহীন অবস্থানে রয়েছেন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
এফএআর/কেএএ/