শিশুরা কেন মিথ্যা কথা বলে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আমি করিনি! - ভাঙা ফুলদানি সামনে রেখে এমন অস্বীকার অনেক বাবা-মায়েরই চেনা দৃশ্য। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন যে, শিশুরা মিথ্যা কেন বলে? শিশু কি ইচ্ছে করে মিথ্যা বলছে? নাকি এর পেছনে আছে ভয়, কল্পনা, কিংবা একটু বেশি মনোযোগ পাওয়ার চাহিদা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মিথ্যা বলা সবসময় খারাপ চরিত্রের লক্ষণ নয়। বরং বয়সভিত্তিক মানসিক বিকাশ, পরিবেশ ও পারিবারিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

১. ভয় থেকে মিথ্যা

অনেক সময় শিশুরা শাস্তির ভয় থেকে সত্য গোপন করে। যদি সে মনে করে সত্য বললে বকা বা মার খেতে হবে, তাহলে সে নিরাপত্তার পথ হিসেবে মিথ্যা বেছে নিতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস জানিয়েছে, কঠোর শাস্তিমূলক পরিবেশ শিশুদের সত্যি কথা বলতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই শাস্তির বদলে খোলামেলা আলোচনা বেশি কার্যকর।

২. কল্পনা আর বাস্তবের সীমারেখা

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে কল্পনা ও বাস্তব আলাদা করা সবসময় সহজ নয়। চার-পাঁচ বছরের শিশু যখন বলে - আমার বন্ধুটি ডাইনোসর, সেটি ইচ্ছাকৃত মিথ্যা নয়; বরং কল্পনাশক্তির অংশ।

হেলদি চিলড্রেন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রি-স্কুল বয়সে শিশুরা কল্পনাপ্রবণ গল্প বলা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ।

শিশুরা কেন মিথ্যা কথা বলে

৩. মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা

কখনও কখনও শিশুরা অতিরঞ্জিত গল্প বলে শুধু নজরে আসার জন্য। পরিবারে নতুন ভাইবোন এলে, বা বাবা-মা ব্যস্ত থাকলে, সে অনুভব করতে পারে যে তাকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে না। তখন মিথ্যা বা বাড়িয়ে বলা তার কাছে হয়ে ওঠে মনোযোগ পাওয়ার একটি উপায়।

৪. আত্মরক্ষার কৌশল

স্কুলে খারাপ ফল, বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলা - বকা খাওয়ার ভয় থেকে এসব ঢাকতে শিশুরা সত্য লুকাতে পারে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, শিশুরা যখন নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে অনিরাপদ বোধ করে, তখন আত্মরক্ষামূলক আচরণ দেখা দিতে পারে, যার একটি রূপ হলো মিথ্যা বলা।

তাহলে বাবা-মা কী করবেন?

প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শিশুকে মিথ্যাবাদী তকমা দিলে সমস্যা বাড়ে। বরং শান্তভাবে জিজ্ঞেস করুন - সে কেন এমন বলল।

সত্য বললে প্রশংসা করুন। ভুল করলে শাস্তির ভয় না দেখিয়ে দায়িত্ব বোঝান। পরিবারে যদি খোলামেলা আলাপের সংস্কৃতি থাকে, তাহলে শিশু বুঝতে শেখে - সত্য বলা নিরাপদ।

শিশুর মিথ্যা বলা অনেক সময় তার বেড়ে ওঠার গল্পেরই অংশ। ভয় কমানো, কল্পনাকে সঠিক পথে উৎসাহ দেওয়া এবং যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া - এই তিন কৌশলেই সমাধানের পথ তৈরি হয়।

তাই ভেবে দেখুন - আপনার সন্তান আজ যে গল্প বলছে, সেটি কি আসলেই মিথ্যা? নাকি সে কেবল নিজের অনুভূতিটা বোঝাতে চাইছে?

সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, হেলদি চিলড্রেন ডট অর্গ, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।