ঈদের ছুটিতে শিশুর নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ২২ মার্চ ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

ঈদের ছুটি মানেই পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি বা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আনন্দ। তবে এই আনন্দের মাঝেই অজান্তে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রতি বছরই দেখা যায়, ঈদের সময় পানিতে ডুবে বা অসতর্কতার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাই অভিভাবক হিসেবে এই সময়টাতে একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সহজেই এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ঈদের ছুটিতে শিশুর নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতাপানি হতে পারে বড় ঝুঁকি

গ্রামের বাড়িতে পুকুর, ডোবা বা অন্য জলাশয় থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এসব জায়গায় শিশুকে একা যেতে দেওয়া উচিত নয়, সে সাঁতার জানুক বা না-ই জানুক। একজন দায়িত্বশীল বড় মানুষের উপস্থিতি ছাড়া কখনোই পানির ধারে যেতে দেবেন না। খেলতে গিয়ে বা হেঁটে যেতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে সব সময়ই।

শুধু পুকুর নয়, রিসোর্ট বা কোথাও বেড়াতে গেলে সুইমিংপুলও সমানভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় সমবয়সী শিশুরা একসঙ্গে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিপদে পড়ে। এ ছাড়া বাড়ির বড় বালতি, ড্রাম বা পানিভর্তি পাত্রও ছোট শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কৌতূহলবশত তারা ভেতরে কী আছে দেখতে গিয়ে উপুড় হয়ে পড়ে যেতে পারে, যা মুহূর্তেই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

ঈদের ছুটিতে শিশুর নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতাবিদ্যুৎ সংযোগের দিকেও নজর দিন

বাড়ির আশপাশে খোলা বৈদ্যুতিক তার বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সরঞ্জাম থাকলে সেগুলো অবশ্যই শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। কোনো জায়গায় ঝুলে থাকা বা ছেঁড়া তার দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে সেই এলাকা থেকে দূরে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।

আগুন, গ্যাস ও গরম জিনিসে সতর্কতাআগুন, গ্যাস ও গরম জিনিসে সতর্কতা

চুলা, গ্যাসের চুলা বা আগুনের কাছাকাছি শিশুকে যেতে দেওয়া ঠিক নয়। ঈদের সময় অনেকেই বাড়িতে বারবিকিউ বা আতশবাজি ব্যবহার করেন, এ ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুদের এসব জিনিস থেকে দূরে রাখুন। ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রেও খেয়াল রাখুন খোলা জায়গা ছাড়া কোথাও না ওড়ানোই ভালো। কারণ এর আগুন আশপাশের ঘরবাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

গরম পানি, ভাত, ডাল বা কেটলির মতো জিনিস এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে শিশু সহজে পৌঁছাতে না পারে। গরম পানি বহনের সময়ও সতর্ক থাকুন, হঠাৎ শিশুর ধাক্কায় তা ছিটকে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কী মুখে দিচ্ছে, খেয়াল রাখুনকী মুখে দিচ্ছে, খেয়াল রাখুন

শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী। তারা অনেক সময় ছোট ছোট জিনিস মুখে দিতে পারে। যেমন- মার্বেল, ফলের বীজ, পিন কিংবা ওষুধ। এতে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়। ওষুধ বা রাসায়নিক দ্রব্য অবশ্যই তাদের নাগালের বাইরে রাখুন। এসব জিনিস ভুল করে খেয়ে ফেললে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

চোখের আড়াল মানেই ঝুঁকি

শিশুকে কখনোই একা ছেড়ে দেবেন না, সে বাড়িতে থাকুক বা বাইরে কোথাও। পরিচিত হোক বা অপরিচিত, কারও কাছেই তাকে একা রাখা ঠিক নয়। শিশুকে বোঝান, অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কারও কাছ থেকে কিছু নেওয়া যাবে না। মনে রাখবেন, যে কোনো শিশুই ছেলে বা মেয়ে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। তাই সব সময় নজরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: 

আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করুন

শিশুকে শেখান যেন কোনো প্রাণীকে উত্যক্ত না করে। ঝোপঝাড়ে বিষধর সাপ বা পোকামাকড় থাকতে পারে, সেটিও মাথায় রাখতে হবে। পুরোনো কুয়া, গর্ত বা উঁচু জায়গা থেকেও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রাস্তার পাশে খেলাধুলার সময় দ্রুতগতির যানবাহনের দিকেও নজর রাখা জরুরি।

ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সবাই নিরাপদ থাকে। তাই উৎসবের ব্যস্ততা আর আনন্দের মাঝেও শিশুকে কখনোই চোখের আড়াল করবেন না। একটু বাড়তি সতর্কতা আর সচেতনতাই পারে একটি দুর্ঘটনা এড়িয়ে আপনার ঈদের আনন্দ অটুট রাখতে।

তথ্যসূত্র: সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।