ঈদে অতিভোজ নয়, সুষম খাবারই ভালো
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর পছন্দের নানা খাবারের আয়োজন। তবে এই আনন্দের মধ্যেই অনেক সময় অতিভোজের কারণে শরীরে দেখা দেয় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। তাই উৎসবের সময় খাবারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ঈদে অতিভোজ নয়, বরং সুষম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সাকিয়া হক। তিনি বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত।
উৎসবের আনন্দে অতিভোজের ঝুঁকি
ঈদের সময় সাধারণত খাবারের তালিকায় থাকে গরু বা খাসির মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি, মিষ্টি, সেমাইসহ নানা রকম তেল–মশলাযুক্ত খাবার। এসব খাবার একসঙ্গে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, ডায়রিয়া, এমনকি উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ডা. সাকিয়া হক বলেন, উৎসবের দিনে খাবারের বৈচিত্র্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
সুষম খাবারের গুরুত্ব
ঈদের সময় খাবারের পরিকল্পনায় সুষমতা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে যেমন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেল প্রয়োজন, তেমনি উৎসবের সময়ও এই ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার। তিনি জানান, মাংস খাওয়া যাবে, তবে সঙ্গে রাখতে হবে শাকসবজি, সালাদ ও পর্যাপ্ত পানি। এতে হজম ভালো হয় এবং শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
আরও পড়ুন:
- হঠাৎ বেশি মাংস খেলে শরীরে কি সমস্যা হতে পারে?
- সংযম শেষে হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলেই বিপদ
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ঈদ সতর্কতা
কীভাবে খাবারের পরিকল্পনা করবেন
- সকাল শুরু করুন হালকা ও পুষ্টিকর খাবার দিয়ে
- একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খান
- তেল–মশলাযুক্ত খাবারের পাশাপাশি রাখুন সবজি
- মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম গ্রহণ করুন
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা
ঈদে মাংস খাওয়া প্রায় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তবে অতিরিক্ত লাল মাংস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ডা. সাকিয়া হক বলেন, লাল মাংসের পরিবর্তে মাঝে মাঝে মাছ বা মুরগির মাংস খাওয়া ভালো। এছাড়া মাংস রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ফ্রিজে রাখা মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তা খাদ্যবিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
ঈদের খাবার শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন করা উচিত। শিশুদের বেশি তেল–মশলাযুক্ত বা মিষ্টি খাবার না দিয়ে ঘরোয়া ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া ভালো। বয়স্কদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকলে খাবারের তালিকায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কম লবণ, কম তেল এবং বেশি সবজি–ফল রাখা উচিত।
পানি ও শারীরিক কার্যক্রমের গুরুত্ব
উৎসবের সময় অনেকেই পানি কম পান করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পর্যাপ্ত পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং হজমে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঈদের সময় কিছুটা শারীরিক কার্যক্রমও জরুরি। নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন হয়।
ডা. সাকিয়া হক মনে করেন, ঈদ আনন্দের উৎসব, তাই এই আনন্দ উপভোগ করতে হলে শরীরকে সুস্থ রাখা জরুরি। খাবারের ক্ষেত্রে সচেতনতা, পরিমিতি ও সুষমতা বজায় রাখলেই উৎসবের আনন্দ হবে পরিপূর্ণ।
জেএস/