হাম হলে শিশুকে সুস্থ রাখতে মানুন এই নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
হামে আক্রান্ত এক শিশু, ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের মধ্যে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অনেকেই একে সাধারণ জ্বর বা চামড়ায় ফুসকুড়ি ভাবলেও বাস্তবে এটি শিশুর শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, অপুষ্টি আছে বা টিকা সম্পূর্ণ হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

হাম হলে শিশুর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেক সময় শিশুর খাওয়ায় অরুচি, দুর্বলতা ও অস্বস্তিও বাড়তে থাকে। এ সময় সঠিক যত্ন শিশুকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে, আবার অসাবধানতা পরিস্থিতি জটিলও করে তুলতে পারে।

হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব

হাম হলে কেন বাড়তি যত্ন জরুরি?

হামের ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ফলে শিশুর শরীরে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক অভিভাবক শুধুমাত্র জ্বর কমানোর দিকেই গুরুত্ব দেন, কিন্তু হামের সময় শিশুর খাবার, বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা ও পানিশূন্যতা রোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর হাম হলে কী করবেন?

  • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখুন: হাম হলে শিশুর শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন। খুব বেশি দৌড়ঝাঁপ বা ক্লান্তিকর কাজ করতে দেবেন না। শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশে রাখুন।
  • বেশি বেশি তরল খাবার দিন: জ্বরের কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই শিশুকে বারবার পানি, ডাবের পানি, স্যুপ, লেবুর শরবত কিংবা তরল খাবার দিন। যদি শিশু বুকের দুধ খায়, তাহলে আরও ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ান।
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান: অনেক শিশুর খেতে ইচ্ছা করে না। তবুও অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন- নরম ভাত, খিচুড়ি, ডিম, সবজি, ফল, স্যুপ। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার শিশুর জন্য উপকারী হতে পারে।
  • চোখের যত্ন নিন: হামের সময় শিশুর চোখ লাল হয়ে যেতে পারে এবং আলোতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ঘরের আলো কিছুটা কম রাখুন এবং পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে চোখ আলতোভাবে মুছে দিন।
  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: শিশুর জামাকাপড়, বিছানা ও ব্যবহার্য জিনিস পরিষ্কার রাখুন। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি। এতে অন্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব

যেসব ভুল অভিভাবকদের এড়িয়ে চলা উচিত

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ দেওয়া: অনেকেই নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক বা বিভিন্ন ওষুধ খাওয়াতে শুরু করেন। এটি বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেবেন না।
  • শিশুকে না খাইয়ে রাখা: কিছু পরিবারে ধারণা আছে, হাম হলে কম খেতে দিতে হয়। এটি ভুল। শিশুর শরীর সুস্থ হতে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন।
  • পানি কম খাওয়ানো: জ্বরের সময় শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই পানি কম খাওয়ানো বিপদ বাড়াতে পারে।
  • ফুসকুড়িতে বিভিন্ন কিছু লাগানো: অনেকে শরীরের দাগে তেল, পেস্ট বা ভেষজ কিছু লাগান। এতে ত্বকে জ্বালা বা সংক্রমণ হতে পারে।
  • শিশুকে জনসমাগমে নেওয়া: হাম অত্যন্ত সংক্রামক। তাই আক্রান্ত শিশুকে স্কুল, পার্ক বা জনসমাগমে নেওয়া উচিত নয়। এতে অন্য শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, শিশুর অতিরিক্ত ঝিমিয়ে পড়া, খেতে না পারা, তীব্র ডায়রিয়া, জ্বর খুব বেড়ে যাওয়া, ঠোঁট বা শরীর নীলচে হয়ে যাওয়া-এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব

হাম প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দিলে এই রোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, টিকাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হামকে কখনোই সাধারণ রোগ ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে বেশিরভাগ শিশুই সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে কোনো জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: হু, ইউনিসেফ, মায়ো ক্লিনিক

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।