মায়াবতী : পর্ব ০৭

মোহিত কামাল মোহিত কামাল , কথাসাহিত্যিক, মনোচিকিৎসক
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ০৬ মে ২০২১

কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের মায়াবতী বাংলা সাহিত্যে দ্বিতীয় মনোবৈজ্ঞানিক উপন্যাস। সাহিত্যের শব্দবিন্যাসে তিনি ব্যবহার করেছেন মনস্তত্ত্ব, সমাজের আড়ালের চিত্র। মা প্রত্যক্ষ করেছেন, মেয়েরা নানাভাবে উৎপীড়ন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, সহজে মুগ্ধ হয়ে অবিশ্বাস্য পাতানো ফাঁদে পা দেয়। মায়ের একান্ত চাওয়া মেয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক। বিধিনিষেধ আরোপ করেন মা। মেয়ে তখন মনে করে, মা স্বাধীনতা দিতে চায় না, বিশ্বাস করে না তাকে। মায়ের অবস্থানে মা ভাবছেন তিনি ঠিক। মেয়ের অবস্থানে মেয়ে ভাবছে, সে ঠিক। মায়ের ‘ঠিক’ এবং মেয়ের ‘ঠিক’র মাঝে সংঘাত বাধে। সংঘাত থেকে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, ভুল করে বসে মেয়ে রিয়া। পালিয়ে যায় ঘর থেকে। এই ‘ভুল’ই হচ্ছে উপন্যাসের মূলধারা, মূলস্রোত। মায়াবতী পড়ে চিন্তনের বুননে ইতিবাচক গিঁট দেয়ার কৌশল শেখার আলোয় পাঠক-মন আলোকিত হবে। জানা যাবে টিনএজ সমস্যা মোকাবিলার কৌশল। জাগো নিউজের পাঠকের জন্য ধারাবাহিক প্রকাশিত হচ্ছে সাড়া জাগানো উপন্যাসটি—

নয়.
মুনা বলল, তুমি কবে যাবে মামা?
রেজা টেবিল থেকে মুখ তুলে বলল, দেখি।
দেখি আবার কী। হয় যাবে, না হয় যাওয়া ঠিক করনি অথবা যেতে চাইছ না। কোনটা সত্যি? মুনা আবারও প্রশ্ন করে টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল।
আমার যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে তোর ভাবার দরকার কী!
ভাবছি কোথায়? জানতে চাইছি। জানতে চাওয়া আর ভাবনা তো এক কথা নয়।
হঠাৎ করে তো কেউ জানতে চায় না। জানতে চাওয়ার আগে মনে ভাবনা আসে। সেই ভাবনা বা চিন্তার কারণে মানুষের আচরণ তৈরি হয়।
না। আমি ভাবনা নিয়ে চলি না। প্রশ্ন করলাম। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করিনি। এমনি করলাম। বলেই ঘুরে দাঁড়াল মুনা।

বসার ঘর পেরিয়ে এসে বাসার বাইরের দরজা খুলে দিলো ও। বাইরের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাটের সামনের লম্বা লবিটার সঙ্গে নিজের শোবার ঘরের সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়ে গেল। শোবার ঘর থেকে করিডরের শেষ মাথা পর্যন্ত দেখা যায়।

শুয়ে শুয়ে পুরো বারান্দা দেখতে ভালো লাগে। ভালো লাগার জন্য সব করতে পারে মুনা।

এখন ভালো লাগছে না। অস্থির লাগছে। অস্থির লাগার কারণও বুঝতে পারছে না। মন বেশ ছটফট করছে। ছটফটানি দূর করার জন্য রেজা মামার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। কথা জমেনি। বাজে প্রশ্ন করে মামার মন খারাপ করে দিয়েছে ও। মামা এখন টেবিলে মগ্ন। মন দেবে না তার দিকে, কেউ অবহেলা করলে সইতে পারে না মুনা। মন তেতে ওঠে। তেতে ওঠা মন সামাল দিতে পারে না। রাগতে থাকে। রাগ বাড়তে থাকে। ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে থাকে। ফুঁসফুঁসানি ভেতরে থাকলে মুখের লাবণ্যের আভা বদলে যায়। মায়ার ঘরে তেড়ে ওঠে হিংস্রতা। জানে মুনা। হিংস্রতা মায়াবি মুখে মানায় না। মুনা মায়াবী। রূপবতী। গুণবতী। সব ভালো গুণের পাশে হিংস্রবতী মুনার চোখের ঘূর্ণি বদলে যায়। সাগরের ঢেউয়ের মতো বড়ো ঢেউ নয়, গোপন মৃদু দোলায় দুলতে থাকে মন। দুলতে থাকে দেহ।

বাইরের দরজা খোলা রেখে ঘরে ফিরে এলো মুনা। এসি অন ছিল। রিমোট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে কমিয়ে দিলো পাওয়ার। ষোলোতে এনে ফিক্সড করে রাখল। পাওয়ার কমলে ঠান্ডা বাড়ে। হিম শীত পছন্দ নয় মুনার। এ মুহূর্তে অপছন্দের কাজটি করছে ও। ঠান্ডা বাড়িয়ে বিছানায় শুয়ে রইল। শুয়েই খেয়াল করল, শোবার ঘরের দরজা লাগানো হয়নি। বাইরের দরজাও খোলা। লম্বা করিডর আরও লম্বা লাগছে। নিজের শোবার ঘর থেকে অনেক দূরের করিডরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পাখির বাসার মতো ফ্ল্যাটের এ সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে। ছোটোর মধ্যে বড়র অস্তিত্ব অনুভব করা যাচ্ছে। ক্ষুদ্র পরিসরে থাকতে থাকতে ছোট হয়ে যায় মন। লম্বা করিডর দেখে ছোট বৃত্তের পরিধি থেকে ছিটকে বেরিয়ে বিস্তৃত হতে থাকে মনের দাবি। বিস্তৃত দাবি নিয়ে উঠে দাঁড়াল ও। শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে লকবাটন টিপে দিয়ে ভাবল নিজের রাজ্যে এখন সে একা। নিজেকে বোঝার চেষ্টা করে আয়নার সামনে দাঁড়াল। ভালো লাগল। নিজেকে দেখে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেল। তেতো মন ধীরে ধীরে মিঠা হতে থাকে। মিঠা মন সাজতে পছন্দ করে। সাজতে শুরু করে মুনা।

এক সেট কাঠের গয়না হাতে নিলো ও। গলায় পরে নিলো বড় ঝোলানো মালা। মালার লকেট গোল। অনেক বড়। ঝুলে আছে চেস্টেরও নিচে, পেটের কাছে চলে এসেছে। কানে বড় ঝোলানো দুল পরেছে। ঠোঁটে লাগিয়ে নিয়েছে গ্লসি লিপস্টেইন। চুল ছড়িয়ে দিয়েছে পিঠে। চোখে কাজল টেনে দিয়েছে। নতুন চকমকে সালোয়ার-কামিজ পরে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। আবার ফিরে এসে কামিজ ও দোপাট্টার রঙের মিশেলে হালকা আইশেড করে, অল্প বেইজ মেকআপ করে নিলো। একবার চারপাশ ঘুরিয়ে নেয় দেহ। পেনসিল-হিল জুতো পরে সানগ্লাস চোখে লাগায়। তারপর বেরিয়ে এলো ঘর থেকে।

রেজা এখনো টেবিলে। কী যেন লিখছে।
মামা, দেখো।
রেজা চোখ তুলে তাকাল।
কেমন লাগছে! বলেই মাথা ঝাঁকিয়ে, কিছুটা বাঁকা হয়ে পুতুলের মতো চোখ মেলে সামনে দাঁড়াল।
চোখ নামিয়ে নিলো রেজা।
কী মামা। চোখ পুড়ে গেল! তাকাতে সাহস পাচ্ছ না।
রিয়া হলে তাকাতাম। তোর দিকে তাকানো যাচ্ছে না।
যাচ্ছে না?
না।
কেন না?
কারণ তুই হলি ভাগনি। ভাগনির দিকে অন্য চোখে তাকানো ঠিক না।
রিয়া ভাগনি না?
না। ভাগনির বয়সি অন্য নারী। অন্য তরুণী। অন্য নারীর দিকে তাকানো সহজ। তোর দিকে তাকানো সহজ না।
আমাকে ভাগনি ভাবছ কেন? অন্য তরুণী ভাবো।
ভাবনা দিয়ে সব হয় না। বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হয়।
রিয়াকে আমি এ বাসায় ঢুকতে দেবো না। বুঝছ? মুনা শক্তস্বরে কথাটা বলে ঘুরে দাঁড়াল। বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।
কেন, রিয়া কী দোষ করল?
দোষ করেনি। তবু রিয়াকে এ বাসায় আসতে দেবো না। থমকে দাঁড়িয়ে মাথা ঘুরিয়ে বলল মুনা।
ও তো তোর জান। জানের জান, ফ্রেন্ড!
হ্যাঁ। জান। জানের জান। তবু আসতে দেবো না। ব্যস।
ওর এখন বিপদ। বিপদের সময় মানুষের কাছে থাকতে হয়, তুই তাকে দূরে রাখতে চাস। দূরে সরিয়ে দিতে চাস। বিষয়টা কি ঠিক হচ্ছে?
দূরে সরিয়ে দিতে চাইছি না।
একটু আগে না বললি! রেজা মামা বিস্ময় নিয়ে বলল।
বলেছি, এ বাসায় আসতে দেবো না। দূরে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলিনি।
সেটা আবার কী কথা?
কিচ্ছু না। আমি ওর কাছে যাব। তবে যতদিন তুমি আছো, ওকে এ বাসায় আসতে দেবো না।
মানে?
মানে কিছু না। মানে হচ্ছে তোমার কাছ থেকে ওকে দূরে রাখা।
কী দোষ করলাম আমি?
দোষ করোনি। দোষ যাতে করতে না পারো, তার জন্য এ ব্যবস্থা।
দোষ করতে পারি, মানে? আমি তো ওর উপকারই করেছি। উদ্ধার করার কাজে হেল্প করেছি।
করেছ। মানলাম। পুরুষ মানুষ উপকার করে স্বার্থের জন্য।
আমি স্বার্থের জন্য উপকার করেছি?
তুমি পুরুষ। পুরুষের চোখ দিয়ে উপকার করেছ। তোমার উপকারের উল্টো পিঠে কী গোপন ইচ্ছা লুকিয়ে আছে, যাচাই করে দেখতে হবে। বলতে বলতে বেরিয়ে গেল মুনা।

চাবুকের সপাং সপাং শব্দের মতো কথা ছুঁড়ে দিচ্ছে ও। মুখরা মুনাকে ঠেকানো এ মুহূর্তে কঠিন। রেজা মাথা নামিয়ে নিয়ে নিজের দিকে চোখ ফেরাল। নিজের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করতে লাগল।

ফ্রয়েডের তত্ত্বের কথা মনে পড়ে গেল। ফ্রয়েড বলেছেন, মানুষের সব ধরনের আচরণের আড়ালে গোপনে কাজ করে যৌন তাড়না, সেক্সচুয়াল ইনস্টিংক্ট।

নিজের আচরণেরও কি গোপনে সেই তাড়না ছুটে বেড়াচ্ছে? মুনা কি বুঝে ফেলেছে? কীভাবে বুঝবে? এত ছোট বয়সে এত বড় ধারণা কীভাবে পেল মুনা? তবে কি সে অতি পাকা? না-কি কচি বয়স থেকেই মেয়েরা সব টের পেয়ে যায়? প্রশ্ন জাগতে থাকে রেজার মনে।

রেজা নিজের জীবনের ওপর দিয়ে চোখ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিলো। শৈশবের কথা মনে পড়ছে। কৈশোর মনে পড়ছে। তারুণ্য মনে পড়ছে। যৌবনকালও। বয়সের এ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ একের পর এক মনে পড়তে লাগল।

মুনার আক্রমণ প্রতিহত হচ্ছে না। নিজের কাছে নিজেই উলঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। নিজের অনেক ধরনের আচরণের আড়ালে যৌনতার চাদরে মোড়া অন্য এক রেজাকে দেখা যাচ্ছে। অনেক খারাপ আচরণের মোড়ক খুলে গেছে। তবু নিজে ওই রেজাকেও খারাপ ভাবতে পারছে না। তাহলে খারাপ বলে কি কেউ নেই! ‘পৃথিবীর সব মানুষ ভালো, আবার সব মানুষই খারাপ’ এ ধারণা মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ কথার অর্থ কী? নিজেকে বুঝতে পারছে না। মুনাকেও না। মুনা তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করে। ভীষণ ভালোবাসে। মামা বলতে অন্তঃপ্রাণ মুনার এ মুহূর্তের আচরণের ব্যাখ্যা কী? রেগে আছে কেন সে? রাগের উৎস কোথায়? বাল্যবন্ধু ফারুকের এমন নির্মোহ নিস্বার্থ সহযোগিতার পেছনেও কি তবে গোপন কোনো তাড়না কাজ করছে? কেবলই কি সে দায়িত্ব পালন করেছে? না-কি দায়িত্বের আড়ালে আছে অন্য কোনো আবেদন? ফারুকের আবেদনের মধ্যে দেখেছে বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। বাল্যবন্ধুর জন্য গোপন টান।

টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াল রেজা। এ সময় হন্তদন্ত হয়ে বাইরে থেকে আবার ঘরে ঢুকল মুনা। মুনা হাঁপাচ্ছে। চোখেমুখে ভয়ের ছাপ।
কী হয়েছে মুনা? রেজা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল।
উফ্! লিফটে আটকা পড়েছিলাম। চট করে লিফ্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইমারজেন্সি বাটনে চেপে ধরেছিলাম। শব্দ বেরোয়নি। পুরো লিফ্ট অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সব বিপদের অভিজ্ঞতা থাকা ভালো। ভয় পাচ্ছিস কেন?
ভয় পাচ্ছি মানে? মরেই তো গিয়েছিলাম।
এত সহজে মরে না মানুষ। মানুষের মরা কঠিন।
ঠিকই বলেছ মামা। মরা কঠিন। সেদিন টিভিতে দেখলাম মিছিলের মধ্যে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলেছে। মরাকেও মারে মানুষ। কেবল কঠিন নয়। নির্মমও। এমন নির্মমতা মানুষেরই সাজে। এমন পৈশাচিক উল্লাস তো মানুষই করতে পারে।
ওরা মানুষ না। ওরা অমানুষ। অমানুষই মর্মান্তিক দৃশ্যটা ঘটিয়েছিল। রেজার মুখ থেকে মানবিক কথা বেরিয়ে এলো।
অমানুষেরা কেবল মিছিলেই থাকে না। লিফটের বিপজ্জনক অবস্থায়ও ওত পেতে থাকে।
সেটা আবার কী? রেজা অবাক। অমানুষকে মিছিল থেকে আবার লিফটে ঢোকালি কেন?
বয়স্ক এক পড়শি লিফটে ছিল। অন্ধকারে আমাকে সাহস দিচ্ছিল। সাহস দিতে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল। প্রথমে সাহস পেয়েছি। পরে দেখি হাত বুকে লাগছে। ছি!
অসাবধানে অন্ধকারে বুকে লাগতে পারে না হাত? ভুল হতে পারে না?
মামা! আমাকে কি কচি খুকি পেয়েছ? ভুল হাত আর দানবের হাত কি আমি বুঝি না? বোঝার বয়স হয়নি?
এত বুঝে ফেলেছিস? বোঝার অনেক বাকি আছে। এত সহজে বুঝলে ভুল হতে পারে। ডোন্ট বি আপসেট, বেবি। ভদ্রলোকটিও তো ভয় পেয়ে যেতে পারেন। ভড়কে গিয়ে কী করেছেন নিজেও হয়তো বোঝেননি।
তুমি তো পুরুষ। তাই বর্বর পুরুষকে সাপোর্ট দিচ্ছ। মিছিলের পুরুষের সঙ্গে লিফটের অন্ধকারের, খালি হাতের পুরুষের কোনো পার্থক্য নেই। বুঝেছ? সবাই দানব। সবাই গোপনে কুত্তা। সবাই গোপনে হিংস্র।

কথা শেষ হওয়ার আগে মুনার সেলফোন বেজে উঠল। সেট চোখের সামনে তুলে ধরে দেখল রিয়ার নাম ভেসে উঠেছে।
রিয়ার ফোন! আনন্দ নেচে উঠল ওর মুখ। কণ্ঠেও জেগে উঠল আনন্দ। মোবাইল ফোন নিয়ে আনন্দধ্বনি ছড়িয়ে ছুটে গেল সে নিজের ঘরে।
রেজা বিষয়টি লক্ষ করল।
একটু আগে মুনা বলেছিল রিয়াকে এ বাসায় ঢুকতে দেবে না। সেই রিয়ার ফোনেই মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে গেছে মুনা।
এ আচরণের ব্যাখ্যা কী?
ফ্রয়েডের কোনো তত্ত্ব কি এখানে কাজ করছে? বন্ধুর জন্য ভালোবাসা? মমতা? ভালোবাসা ও মমতার আড়ালেও কি তবে যৌনতা কাজ করে। যৌনতার কোনো গোপন টান কি তবে সমলিঙ্গের ভালোবাসার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে? না-কি মুনার আগের কথা রিয়াকে নিয়ে ছিল ঈর্ষায় ভরা? ঈর্ষার উৎস কী? রিয়ার প্রতি রেজার প্রচ্ছন্ন ভালো লাগা? মমতার এ গোপন সংবাদ কি তবে মুনার কাছে চাউর হয়ে গেছে? সেখানে কি নিজের গোপন যৌনতা কাজ করেছে? যৌনতার টান কি রিয়ার প্রতি প্রবল? মুনা কি দেখে ফেলেছে সব?

কোনো গোপন খবর গোপন থাকছে না। নিজের কাছে গোপন থাকলেও অন্যের চোখে ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এজন্যই মানুষের সব গোপন সংবাদ কোনো কোনো সময় ফাঁস হয়ে যায়। ফাঁস হয়ে যেতে বাধ্য।

পড়শির গোপন ইচ্ছা সুযোগমতো প্রকাশ হয়ে গেছে। হয়তো ভদ্রলোক দিনের পর দিন দেখেছে মুনাকে। গোপনে তার দেহে যৌনতার পোকা বাসা বেঁধেছিল। মোক্ষম সময়ে উপকারের পর্দার নিচ থেকে সেই যৌন ইচ্ছা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেছে। ফ্রয়েডকে মনে মনে ধন্যবাদ দিলো রেজা। ধন্যবাদ দিলেও ফ্রয়েড-তত্ত্ব খোলাসা হলো না। মিছিলের সহিংস আচরণের পেছনে যৌনতা কোথায়? সেখানে আছে রাজনৈতিক হতাশা। হতাশা থেকে আসছে সহিংসতা। না-কি মিছিলের আড়ালেও লুকিয়ে আছে ব্যক্তির অতৃপ্তি? এ অতৃপ্তি থেকেই কি তবে পৈশাচিক উল্লাস? প্রশ্ন জাগতে লাগল রেজার মনে।

বাইরের দরজায় ডোরবেলের শব্দে চমকে ওঠে মুনা। নিজের ঘর থেকে দরজার দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো ও। দরজা খোলার জন্য মুনার ওঠা দরকার। তবুও তাগিদ পাচ্ছে না ওঠার। বসে থাকল নিজের ঘরে।
আবার শব্দ। আবারও তাকাল ও। না উঠে বসে রইল। চুপচাপ।
রেজা ভেতরের ঘর থেকে একবার উঁকি দিলো বসার ঘরে। তারপর উঠে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মুনার ঘরের দিকে একপলক তাকিয়েই প্রথমে মুনার ঘরের দরজা লাগিয়ে দিলো। তারপর বসার ঘরে ঢোকে। কিছুক্ষণ থমকে থেকে আবার হাঁটতে লাগল বাইরের দরজার দিকে।

চলবে...

এসইউ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]