সাংবাদিক আজাদের ‘ঘুমন্ত বিবেক ও বাণিজ্যিক মানবতা’

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৯

সম-সাময়িক বিষয় সবসময় মুখ্য হয়ে ওঠে সাংবাদিক আবুল আলাম আজাদের লেখায়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার সূত্র ধরে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, ধর্ম ও রাজনীতির ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।

‘ঘুমন্ত বিবেক ও বাণিজ্যিক মানবতা’ নামে বইয়ের কেন্দ্রে আছে উল্লেখিত নানা বিষয়। তার লেখা প্রথম এই বইটি প্রকাশ করেছে ‘হাওলাদার প্রকাশনী’। এটিই লেখকের প্রথম বই।

বইটি সম্পর্কে লেখক বলেন, মূলত আমি লেখক হিসেবে আমার সামাজিক দায়কে অস্বীকার না করে পাঠককে দিতে চেয়েছি সম-সাময়িক বিষয়ক একটি উপখ্যান। সাধারণ মানুষের জীবনকে খুব কাছে থেকে দেখে সেই দেখার অনুভবটুকু তিনি ধরে রাখতে চান নিজের লেখায়।

তিনি বলেন, লেখালেখির আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই, ২০০৬ সাল থেকে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে তার লেখার প্রাতিষ্ঠানিক সীকৃতি পায়। সমসাময়িক বিষয় নিয়েই লিখতে বেশি পছন্দ করি। ঘুণে ধরা এ সমাজের মানুষের ঘুমন্ত বিবেককে লেখনীর মাধ্যমে জাগ্রত করতে চাই।

‘লিখতে লিখতে কীভাবে যেন লেখার প্রতি প্রেম জন্মাল, বুঝতেই পারিনি। ভালো লাগার সঙ্গে ছিল লেখার প্রতি দায়িত্বশীলতা। দু’টোকে রক্ষা করতেই পেশা হিসেবে নিয়েছি লেখালেখিকে। জানি না কতটা পেরেছি। যদিও লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবন ধারণ করা আমাদের দেশে এখনো বেশ অসম্ভব, তবু পেশার স্থলে ‘লেখক’ লিখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি আমি।

সমসাময়িক যারা লিখছেন, তাদের অনেকের লেখাই তার ভালো লাগে। তবে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তার প্রিয় লেখক কে? উবায়দুর রহমান খান নদভী, লেখক ও সাংবাদিক। আবুল আসাদ, (সাইমুম সিরিজের লেখক ও সাংবাদিক)।

তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বসাহিত্য পড়লে ভালো লেখার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। ভালো লাগে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা। আর অনুপ্রাণিত হন লিও তলস্তয় ও ফিওদর দস্তয়েভস্কির লেখা পড়ে।

এত লেখালেখির শক্তি পান কোথা থেকে জানতে চাইলে মানবতাবাদী লেখক বলেন, আমি লিখব- এই মানসিকতাই লেখার প্রেরণা। লেখক হওয়ার জন্য পড়ার বিকল্প নেই। বিশেষ করে কলাম লিখতে হলে সংবাদপত্র নিয়মিত পড়তে হবে। সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।

লেখালেখির পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, আমার লেখার মধ্যদিয়ে পিঁছিয়ে পড়া সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। যুব সমাজের মধ্যে নেতৃত্ববোধ, দেশপ্রেম জাগ্রত করতে চাই, লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। সৃজনশীল কাজে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ সকল নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে একটি ইতিবাচক যুবসমাজ তৈরি সময়ের ব্যপার।

এমআরএম/এমকেএইচ