পুলিশ কনস্টেবল হত্যা, আরও একজনের স্বীকারোক্তি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুলিশের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইয়াছিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ইয়াছিন আদালতকে জানিয়েছেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের নির্দেশে এবং তার উপস্থিতিতে কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে গুলি করা হয় এবং অন্যরা কোপায়। তাদের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন মারা যান।
সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আখতারুজ্জামান ভূইয়ার আদালতে এ জবানবন্দি দেন গ্রেফতার ইয়াসিন। এর আগে রোববার অপর একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গ্রেফতার পাভেল।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই মিজানুর রহমান জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী ও ২১ সেপ্টেম্বর রুপগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মামলার প্রধান আসামি কালাপাহাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের ভগ্নিপতি কালাপাহাড়িয়া খালিয়ারচর এলাকার শাহআলমের ছেলে ঈমান আলী (২৭), কালাপাহাড়িয়া এলাকার মৃত আজগর আলীর ছেলে পাভেল (৩০) ও একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে ইয়াছিন (২৬)।
পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এর মধ্যে রোববার পাভেল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
স্বীকারোক্তিতে আসামি ইয়াছিন জানান, ১ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হলে দেখতে পান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা চলছে।
তখন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের হুকুমে ও নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় বিভিন্ন প্রকার রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়ালসহ রুবেলদের বাড়ি ঘেরাও করে সকলকে কুপিয়ে জখম করেন তারা।
তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যান স্বপন নিজে উপস্থিত থেকে সেখানে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় ছুটিতে আসা পুলিশের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে হত্যা নিশ্চিত করে তারা চলে যান।
মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/আইআই