‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের পেছানো বিব্রতকর’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ০৭ মে ২০২২
উরুগুয়েতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতার সংকোচন বিষয়ে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’-এর বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বছর দিবসটি উপলক্ষে গত ২-৪ মে উরুগুয়েতে গ্লোবাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ৮৬টি দেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। তিনদিনের এ আয়োজনে যোগ দিতে তিন হাজার ৪০০ জন নিবন্ধন করেন।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে আর্টিকেল নাইনটিন ‘ইক্যুয়ালি সেইফ: টুওয়ার্ডস অ্যা ফ্যামিনিস্ট অ্যাপ্রোচ টু দ্য সেফটি অব জার্নালিস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আর্টিকেল নাইনটিনের আমন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন এতে বক্তৃতা করেন।

সারা হোসেন বলেন, ‘নারীকর্মীর নিরাপত্তায় দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমগুলোতে গাইডলাইন না থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মিডিয়া হাউজে যখন কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতি না থাকে, তখন দায়মুক্তির সংস্কৃতি বেড়ে যায়। এজন্য সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের জন্য আইনি সহায়তা একটি বাধ্যতামূলক সুবিধা হিসেবে প্রদান করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আর্টিকেল নাইনটিন, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) প্রকাশিত গণমাধ্যমের বৈশ্বিক স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবনতিশীল অবস্থানের বিষয়ে সর্বোচ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ এ সূচকে ১৫২তম অবস্থানে ছিল। সেখান থেকে ১০ ধাপ পিছিয়ে এবার ১৬২তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকেও পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, এ বছর ইউনেস্কোর বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ডিজিটাল অবরোধে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ উদাহরণগুলোর একটি। আর্টিকেল নাইনটিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবনমনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এ সূচকে বাংলাদেশ ১০ ধাপ পিছিয়েছে, যা দেশের জন্য বিব্রতকর।

তিনি বলেন, ‘অবনতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে সরকার, নীতিনির্ধারক ও নির্বাহী সংস্থাগুলোর নিবিড় মনোযোগ আকর্ষণ করছি। এ ইস্যুতে উচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানাই। এছাড়া আমরা সরকারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিতে চাই।’

আর্টিকেল নাইনটিন যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি ২০০৮ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যক্রম শুরু করে।

এমওএস/এএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]