দেড় বছরে ৮ সম্পাদক বরখাস্ত, ১৮৯ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৩ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে ১৮৯ জন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮টি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২৯ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল এবং একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিকানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর টিআইবির কনফারেন্স রুমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের একটি অংশে গণমাধ্যম খাত নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব তৈরির চেষ্টা থাকলেও মব সহিংসতার মাধ্যমে গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে চাপ সৃষ্টি, সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে মোটা দাগে ছয়টি বিষয় তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- দায়িত্ব পালনকালে হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত; প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা-লুটপাট-ভাঙচুর-অগ্নিকাণ্ড।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৪৯৭টি হয়রানির ঘটনায় এক হাজার ১০৪ জন গণমাধ্যমকর্মী হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০৪ জনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় ৩০ জন গ্রেফতার ও জামিন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে টিআইবি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ দল ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রবণতা বেড়েছে। বিরুদ্ধ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার এবং গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়লেও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারের (আরএসএফ) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ উন্নতি করলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে ১৩টি আইনের বিভিন্ন ধারা চিহ্নিত করলেও সেগুলো সংস্কারের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিশন প্রণীত সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের খসড়া কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতে কমিটি গঠন করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের মতোই বিদ্যমান রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এএএইচ/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।