ঢাকায় বরেণ্য স্কলার জোনাথন ব্রাউন, গবেষক-আলেমদের সঙ্গে চিন্তা বিনিময়

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার প্রফেসর জোনাথন এ. সি. ব্রাউন, ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইউকের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সফরে সম্প্রতি ঢাকা ঘুরে গেলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্কলার প্রফেসর জোনাথন এ. সি. ব্রাউন।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আলওয়ালিদ বিন তালাল চেয়ার অব সিভিলাইজেশন’-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ পদের এই অধ্যাপক তার বর্ণবাদ ও দাসপ্রথা বিষয়ক মৌলিক গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে মুসলিম বিশ্বে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ইমাম বুখারীর হাদিস সংকলনের ওপর তার কালজয়ী কাজ ‘দ্য ক্যানোনাইজেশন অব আল-বুখারি অ্যান্ড মুসলিম’-এর জন্য।

জোনাথন এ. সি. ব্রাউন রচিত ‘মিসকোটিং মুহাম্মদ (সা.)’ আল্লাহর রাসুল (সা.) সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বের নানা প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচারের জবাবে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ, যা বাংলা অনুবাদেও বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার অধিকাংশ বই-ই বিশ্বব্যাপী ইসলামী স্কলারদের কাছে সমাদৃত এবং আরবি, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

সফরকালে প্রফেসর ব্রাউন বাংলাদেশের আলেম-উলামা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তরুণ গবেষকদের সঙ্গে সভা-সেমিনারে অংশ নেন।

‘দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম অ্যান্ড ল’-এর প্রধান সম্পাদক প্রফেসর জোনাথন তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হাদিস, ইতিহাস ও সিরাত বিষয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

গত ২ মে সকালে বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিউট, ইউকের আয়োজনে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে তরুণ চিন্তক ও গবেষকদের নিয়ে একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন, যেখানে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা, ইসলামি শরীয়া ও আইন নিয়ে তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেলে একই হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক ও আলেম উলামাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজের ধারা ও প্রবণতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিউটের কো-ফাউন্ডার ড. কামরুল হাসান ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইসলামি গবেষক শেখ ফয়জুল ইসলাম।

ড. কামরুল তার বক্তব্যে দুই বাংলার মুসলিমদের সোনালি ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন এবং ঢাকাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ইসলামিক ইন্টেলেকচুয়াল হাব করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেখ ফয়জুল ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের ও পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামি জ্ঞানের জগতের আদান প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গোষ্ঠী চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান করেন।

এর আগে সফরের প্রথম দিন ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রফেসর জোনাথন। ওই দিন বিকেলেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১ মে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রফেসর ব্রাউন। নামাজ শেষে তিনি মসজিদের খতিব ও দেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ মাওলানা আব্দুল মালেকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তার আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

এ সময় দুই প্রান্তের দুই হাদিস বিশেষজ্ঞ ঘণ্টা খানেকের মতো হাদিস শাস্ত্র ও আরব বিশ্বের হাদিস বিশারদদের নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে দুইজন নিজেদের গ্রন্থও বিনিময় করেন।

এরপর জোনাথন এ. সি. ব্রাউন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ ও রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে লেকচার দেন।

সফরের শেষ দিন ৩ মে সকালে জোনাথন ব্রাউন নারায়ণগঞ্জে তেরো শতকের প্রখ্যাত পণ্ডিত শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। দুপুরে তিনি বাংলা একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

প্রফেসর ব্রাউনের এই সফরে সরাসরি প্রায় এক হাজার চিন্তক ও গবেষক তার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের তরুণ চিন্তক ও গবেষকরা প্রফেসর জোনাথন ব্রাউনের এই সফরকে স্বাগত জানান ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এমএমএআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।