মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক ‘কবজিকাটা গ্রুপের’ ৮ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

রাজধানীর মোহম্মদপুরের ‘কবজিকাটা গ্রুপের’ অন্যতম প্রধান সহযোগী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং লিডার মো. বাবু খান ওরফে টুন্ডা বাবু এবং কবজিকাটা আনোয়ারের অন্যতম প্রধান সহযোগী মো. রফিকুল ইসলাম রানা ওরফে রিফাতসহ আটজনকে মাদক ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে র‍্যাব-২ ব্যাটেলিয়নের সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ব্যাটেলিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার। গতকাল রোববার সাভারের হেমায়েতপুর ও মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২।

গ্রেফতাররা অন্যরা হলেন, ‘কবজিকাটা গ্রুপের’ সদস্য সাকিব মৃধা (২২), মো. রিয়াজ সরদার (২১), মো. শাকিল (২৫), মো. মনিরুল হাসান ওরফে গুটি হাসান (২৫), মো. সুমন হক (২৪) ও মো. লামিম (২০)।

মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক ‘কবজিকাটা গ্রুপের’ ৮ সদস্য গ্রেফতার

আরও পড়ুন

এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি সামুরাই, ৪টি চাপাতি, ২টি ছুরি, ২টি চায়নিজ কুড়াল, ২টি হাতুড়ি, ৪৫০ পিচ ইয়াবা, নগদ ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯০০ টাকা, ১টি মাদকদ্রব্য পরিমাপের ডিজিটাল স্কেল, ১৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ৪টি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।

খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, সাভার থানাধীন হেমায়েতপুর আলম নগর সুগন্ধা হাউজিং এলাকায় একটি বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে (১ নম্বর আসামি মো. বাবু খান ওরফে টুন্ডা বাবুর (৩১) বর্তমান ভাড়া বাসার মধ্যে) কতিপয় মাদক কারবারি ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশে অবস্থান করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ঘটনাস্থলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালানোর চেষ্টাকালে আসামিদের গ্রেফতার করে।

একই দিনে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে একদল সশস্ত্র যুবক ডাকাতির উদ্দেশে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান এলাকায় একত্রিত হয়েছেন। পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য আনোয়ার ওরফে কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।

মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক ‘কবজিকাটা গ্রুপের’ ৮ সদস্য গ্রেফতার

গ্রেফতার টুন্ডা বাবুর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাব জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সে ও তার গ্যাংয়ের লোকজন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া গ্রেফতার টুন্ডা বাবু মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের নিয়ে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম রানা ওরফে রিফাতের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাব জানায়, ঢাকায় সে গাড়ির হেলপার হিসেবে কাজ করে। পরে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সময় আনোয়ার ওরফে কবজিকাটা আনোয়ারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে এবং আনোয়ারের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত হয়। সে কবজিকাটা আনোয়ারের নির্দেশে মোহাম্মদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ভূমি দখল, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাসহ বিভিন্ন সস্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় কম জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পথচারীদের জিম্মি করে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ভ্যানিটি ব্যাগ ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে এবং রাত গভীর হলেই বাসা বাড়ি, ফ্লাটে ও গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে নেয়।

গ্রেফতারদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‌্যাব কর্মকর্তা খালিদুল হক হাওলাদার।

কেআর/এমকেআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।