হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ
উপাধ্যক্ষ সাইফুর হত্যায় তরুণ-তরুণীকে সন্দেহ
রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন পুরান পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় খুন হন হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুর রহমান ভুঁইয়া (৫০)। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মুজাহিদুর রহমান ভুঁইয়া বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে উত্তরখান থানা পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওই ফ্ল্যাটে ২০-২২ বছর বয়সী একজন তরুণ ও একজন তরুণীকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) জানতে চাইলে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মুহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান ভুঁইয়াকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন। উত্তরখানের পুরান পাড়ায় একটি বাড়ির চতুর্থ তলায় একাই থাকতেন সাইফুর রহমান। কয়েক মাস ধরে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেখানে তিনি একাই থাকতেন। তবে একজন ছেলে ও একজন মেয়েকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান।
দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. নাসিম জাগো নিউজকে জানান, সম্প্রতি এক তরুণ ও তরুণী ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার ভোরে তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান। আশা করছি শিগগির তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হবে।
এদিকে সাইফুর রহমানের মরদেহ ময়নাতদন্ত মঙ্গলবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ মরদেহ আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সাইফুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাথরুমে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাথরুম থেকে বেরিয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। এরপর আশপাশের লোকজন তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ওসি বলেন, নিহত সাইফুরের স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে শান্তিনগর পীর সাহেবের এলাকায় একটি বাসায় থাকেন। তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান উত্তরখানে থাকা শুরু করেন।
টিটি/এমআইএইচএস/এএসএম