মজুত পর্যাপ্ত

এলপিজির সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

বর্তমানে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে জানিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

রোববার (৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আজ (রোববার) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আজ বিকেল ৩টায় জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়।

বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট বিষয়ে আলোচনায় ঠিক আছে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, গত নভেম্বর মাসে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বর মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি হলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

সভায় জানানো হয়, দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ এলপিজির চাহিদা বেসরকারি খাতের আমদানিকারকদের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে বিভিন্ন বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৩২টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৫টি কোম্পানি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ ৫৮ হাজার ১৫২ দশমিক ৪৫ টন এলএনজি আমদানি করতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা এ সংকট তৈরি করেছে বলে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং আমদানিকারকরা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৩ থেকে এক হাজার ৩০৬ টাকায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ইতোমধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট (এলসি সহজীকরণ, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস করা ইত্যাদি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বলা হয়, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এলপিজি বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করবে।

তাছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে এলপিজির দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

আরএমএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।