সম্পর্ক জোরদারে উরুগুয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু বাংলাদেশের
কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পার হলেও এই প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শে বসেছে বাংলাদেশ ও উরুগুয়ে। নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সভার আগে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। যার মাধ্যমে নিয়মিত, কাঠামোবদ্ধ ও সর্বাঙ্গীণ সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠলো।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও বাংলাদেশে উরুগুয়ের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত আলবার্তো আন্তোনিও গুয়ানি আমারিলা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে তারা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশ ও উরুগুয়ে ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এটিই দুই দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ সভা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আলোচনায় উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনগণ-থেকে-জনগণের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, ক্রীড়া এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দেয়।
দুই দেশের মধ্যে বেসরকারি খাতের সহযোগিতা বাড়াতে শীর্ষ চেম্বার অব কমার্স ও শিল্প সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করার বিষয়ে একমত হয় উভয়পক্ষ।
উরুগুয়ে প্রতিনিধিদল কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় হয়। উভয় দেশ জাতিসংঘের কাঠামোর আওতায় বহুপাক্ষিকতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এবং এ বিষয়ে উরুগুয়ের অব্যাহত আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করে।
দুই পক্ষ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী দফার রাজনৈতিক পরামর্শ সভা আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফর ও প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জেপিআই/বিএ/জেআইএম