ক্রীড়া উপদেষ্টা

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে আমরা অনড়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
সচিবালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল/ ছবি- জাগো নিউজ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অনড় বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ অবস্থান আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টা।

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ খেলতে যাবে কি যাবে না, সে বিষয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান। বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ বোর্ডের পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
লিটনের সঙ্গে ভারতীয় ব্যাট কোম্পানির চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি 
আল্টিমেটাম নয়, বিসিবির মতামত ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে আইসিসি 

উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের মর্যাদা- এটার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করবো না। আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আরেকটা যে আয়োজক দেশ আছে শ্রীলঙ্কা, আমরা সেখানে খেলতে চাই।

তিনি বলেন, এই পজিশনে (ভারতে খেলতে না যাওয়া) আমরা অনড়। আমরা কেন অনড়, আমরা আশা করি সেটা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবো। আইসিসি আমাদের যুক্তিগুলো সহৃদ্যতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করে কষ্ট করে যেটা অর্জন করেছি সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের খেলার সুযোগ করে দেবে।

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেওয়ার পর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে জানায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে জানিয়েও দিয়েছে। জবাবে বিসিবির তোলা উদ্বেগ সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে আইসিসি।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে কোয়ালিফাই করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আমরা ক্রিকেট ভক্ত জাতি, আমরা খেলতে চাই। কিন্তু জাতির অবমাননার বিনিময়ে আমাদের ক্রিকেটার, আমাদের দর্শক, আমাদের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিনিময়ে, দেশের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে চাই না।

তিনি বলেন, আজ আমরা আইসিসি থেকে যে চিঠিটা পেয়েছি, সেই চিঠিটা পড়ে আমাদের মনে হয়েছে ভারতে যে প্রচণ্ড একটা নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য সেটা তারা বুঝতে সক্ষম হননি। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, জাতীয় অবমাননা ইস্যু। যাই হোক আমরা নিরাপত্তা ইস্যুটিকেই মুখ্য করে দেখছি।

‌‘যেখানে ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কলকাতা টিমকে বলছে যে এই খেলোয়াড়কে (মোস্তাফিজুর রহমান) নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে না, তাকে তোমার টিম থেকে বাদ দাও। এটাই তো একটা বড় ধরনের প্রমাণ যে ভারতে নিরাপদে খেলার মতো পরিস্থিতি নেই। ভারতের সাম্প্রদায়িকতার আরও বড় চিত্র আছে, সে ব্যাপারে বলতে চাই না।’

আইসিসি যদি আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা না করে, যদি কোনো শাস্তি দেয় বা ওয়াকওভারের অপশন দেয়, বিসিবি বা সরকারের স্ট্যান্ডটা কী হবে- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রথম স্ট্যান্ড হচ্ছে আইসিসিকে বুঝানো। আমাদের যথেষ্ট শক্ত যুক্তি আছে। সেই যথেষ্ট শক্ত যুক্তি দিয়ে আমরা আইসিসিকে বুঝাবো। আমাদের স্ট্যান্ডের মূলনীতি হচ্ছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সম্মান আর বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আমরা আপস করবো না, কিন্তু আমরা অবশ্যই ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে চাই। তারপর পরবর্তী পরিস্থিতি যা হবে সেটা নিয়ে আবার আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। এখন পর্যন্ত আমরা এই সিদ্ধান্ত খুব ক্লিয়ারলি নিয়েছি যে আমরা আইসিসিকে বুঝাবো যে আমাদের ভারতে খেলার মতো পরিবেশ নেই।

আপনাদের দিক থেকে আইসিসিকে কোনো ফরমাল চিঠি আবার দেওয়া হবে কি না- এ বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আজ রাতে বা কাল সকালের মধ্যেই দেওয়া হবে।

এ সময় বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমাদের স্কোপ আছে সেটা হচ্ছে খেলোয়াড়দের দেখা। কিন্তু খেলোয়াড়ের বাইরে যে বড় একটা জনগোষ্ঠী আছে, আমাদের সাংবাদিকরা আছেন, আমাদের ক্রিকেট স্পন্সররা আছেন, আমাদের ক্রিকেটের লাভাররা আছেন, অনেকে খেলা দেখতে যাবেন, সব সিকিউরিটি তো ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এ জন্য আমরা সরকারের নির্দেশনা নিচ্ছি, কারণ আপনারা জানেন যে আমাদের যে কোনো বিদেশ ট্যুরে যাওয়ার সময় আমাদের সরকারি অর্ডার লাগে। তো সেই অর্ডারের পজিশনটা আমরা জানতে এসেছিলাম। আমরা এখন জেনে গিয়েছি যে আমরা সবাই একসঙ্গে এই যে সেফটি এবং সিকিউরিটি যদি ইম্প্রুভ না করে, আমরা এই বিশ্বকাপে ফাইট করে যাবো ফর আওয়ার রাইটস।

এক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেন, আমরা তো একটা ভ্যালিড রিজন নিয়ে কথা বলছি বা আমরা রেইজ করছি। আমরা তো এতগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, কখনো এই ধরনের কথা বলিনি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, তাই আমরা এটা রেইজ করেছি স্ট্রংলি।

আইসিসি যদি বলে যে আপনাদের এখানেই খেলতে হবে, তখন আপনারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন কি না- এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, না, আইসিসিকে আমরা বোঝাবো, আমাদের মন্ত্রী মহোদয় যেভাবে বললেন, আমরা বোঝাবো। কারণ দেখেন, আগেও কিন্তু সিকিউরিটির কারণে এ ধরনের বিভিন্ন ইভেন্ট হয়েছে এবং আপনারা জানেন যে হাইব্রিড বিশ্বকাপ যে হচ্ছে, সেটার মূল কারণটাই কিন্তু সিকিউরিটি। ফলে আমরা আশা করছি যে আমাদের যে রিজনগুলো আছে সেগুলো আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।

আরও দেশ ভারতে খেলতে যাবে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও চলে আসবে নিশ্চয়ই। তারা যদি কমপ্লেইন না করে, আমাদের কমপ্লেইনটা টিকবে কি না- জানতে চাইলে বুলবুল বলেন, আমরা তো ভ্যালিড রিজন নিয়ে কথা বলছি। যখন একজন খেলোয়াড়কেই শৃঙ্খলা সিকিউরিটি দিতে অসুবিধার কারণেই তো তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তখন সেটা দল, একটা পুরো বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী, যারা খেলা দেখতে যাবে, এটা তো বিরাট ব্যাপার।

দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের খেলার ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে- এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, আমাদের জাতীয় দল তৈরি করছি আমরা। আপনারা জানেন যে আমাদের টিম স্কোয়াড ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই বিপিএলটা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এর ওয়ান অফ দ্য রিজন যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমাদের টিম যেন ইউজড টু হয়। সবকিছুই আমাদের দিক থেকে আমরা প্রস্তুতি রাখছি। সো আমাদের এখানে কোনো ছাড় নেই।

‘একটা প্রোপাগান্ডা চলছে যে আইসিসি আমাদেরকে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কায় খেলা সম্ভব না- এই ধরনের কোনো কথাই হয়নি আমাদের কারও সঙ্গে। আমি জানি না, এটা একটা প্রোপাগান্ডা, আমি বলবো ফলস নিউজ। কেননা এখনো আইসিসির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে একটা। আমরা তাদেরকে জানিয়েছি, তারা আমাদের থেকে জানতে চেয়েছে কী কী ইস্যু। তো আমরা এখন কী কী ইস্যু সেগুলো লিখে পাঠাবো।’

বাংলাদেশ যদি না যায় তার মানে হচ্ছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে না। যেহেতু ভারত ছাড়া অন্য কোথাও ভ্যালু নেই। বিসিবি কি সেটা বিবেচনায় নেবে- এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিসিবি সেটাও কনসিডার করবে। যখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছিল তখন কিন্তু ইন্ডিয়া-পাকিস্তানে যায়নি এবং পাকিস্তানও কিন্তু গত কয়েকটা বিশ্বকাপ খেলতে ইন্ডিয়াতে আসেনি। সো আমরাও আশা করছি যে আমরা একটা সঠিক অ্যানসার পাবো।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম, বিসিবির পরিচালক ইফতেখার আহমেদ মিঠু, খালেদ মাসুদ পাইলট, মো. আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক আহমদ, নাজমুল আবেদিন ফাহিম, আবুল বাশার, মেহরাব আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ইফতেখার রহমান, মোখছেদুল কামাল বাবু, আসিফ আকবর এবং বিসিবির সিইও নিজাম উদ্দিন।

আরএমএম/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।