প্রার্থী হতে রাঙ্গাকে ঘুস পনিরের, দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
মসিউর রহমান রাঙ্গা ও পনির উদ্দিন আহমেদ/ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুস লেনদেন এবং ওই অর্থ স্থানান্তর ও নগদায়নের অভিযোগে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থার মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।

মসিউর রহমান রাঙ্গার সম্পদের উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আক্তার হোসেন বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ ও অসৎ উদ্দেশে অন্যায়ভাবে লাভবান হতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন। এ উদ্দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুস হিসেবে প্রদান ও গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ওই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তর ও নগদায়নের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। 

দুদক জানায়, পনির উদ্দিন আহমেদ মেসার্স জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরি এবং হক স্পেশালের (পরিবহন ব্যবসা) স্বত্বাধিকারী। তিনি কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক এমপি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিনি মসিউর রহমান রাঙ্গাকে অর্থ দিয়েছেন।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম শাখা থেকে রংপুর শাখায় ২০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকের কুড়িগ্রাম শাখা থেকে সংসদ ভবন শাখার একটি হিসাবে একাধিক দফায় অর্থ জমা দেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর ২৫ লাখ টাকা করে দুই দফায় মোট ৫০ লাখ টাকা, ১৯ নভেম্বর ৫০ লাখ টাকা, ২২ নভেম্বর ৪০ লাখ এবং ২৫ নভেম্বর ১০ লাখ টাকা নগদ জমা দেওয়া হয়।

এভাবে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নগদে জমা ও ক্যাশ করা হয়। অন্য লেনদেনগুলোসহ সব মিলিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুস হিসেবে প্রদান ও গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানায় দুদক।

দুদক জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৫ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হবে।

এসএম/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।