রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ‘নগর সরকার’ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর গুলশানে ‘ঢাকা বাঁচানোর ইশতেহার’ সংলাপে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজসহ নগর বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদরা

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে নগর সরকার অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছেন নগর বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদরা। তাদের বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের নগরগুলোর দুরবস্থার জন্য অন্যতম কারণ সমন্বয়হীনতা ও সিটি মেয়রদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা। নগর সরকার গঠন করে তা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগরের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে নগর সরকার গঠন ও নগরের সমস্যাগুলো সমাধানে স্পষ্ট রূপরেখার প্রস্তাব জানাই।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এক সংলাপে তারা এ প্রস্তাব করেন। ‘ঢাকা বাঁচানোর ইশতেহার’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ ও গুলশান সোসাইটি। নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার সাদাত ওমর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ওয়াসা, রাজউক ও পুলিশকে সিটি করপোরেশনের অধীন এনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ প্রতিষ্ঠা না করলে শহরের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। এখানে জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অভিবাসীদের জন্য ‘আরবান সেফটি’ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে ভবিষ্যতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, ‘বর্তমানে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কোনো কার্যকর সমন্বয় নেই। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একটি ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ গঠন করা অপরিহার্য। সিটি গভর্নমেন্ট ছাড়া মেয়রের পক্ষে অনেক কাজই করা সম্ভব নয়, কারণ বর্তমানে মেয়রের হাতে এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশি ক্ষমতাও নেই। ঢাকার মেয়রকে স্থানীয় সরকারে না রেখে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসা উচিত, যাতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

jagonews24

ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এস এম খালেদুজ্জামান বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা ঢাকার শহর গড়ে দেবে এটা ভুলে যান। আমাদের শহর আমরা সবাই মিলে গড়বো। এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন না, যে কথা রাখে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন শহর নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠে, তেমনি আমাদের ঢাকা শহরটা কিন্তু বুড়িগঙ্গা নদীকে নিয়ে আমাদের বাপ-দাদারা স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সেটিকে নানা অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বসবাসের অযোগ্য শহরে পৌঁছে গেছি। আমরা ঢাকার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবো। নগরবাসীকে আমাদের পাশে চাই।‘

জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে ঢাকা বাঁচাতে ১০টি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার জন্য ঠিক করেছি। এরমধ্যে অন্যতম হলো সমন্বিত সরকার ব্যবস্থা। সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, ডেসাসহ অনেক সংস্থা রয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এরজন্য সমন্বিত সরকার ব্যবস্থা দরকার। এছাড়া টেকসই অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, যত্রতত্র শিল্প-কারখানা রোধ, নারীর নিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করার অগ্রাধিকার থাকবে ইশতেহারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমদের ঢাকার পরিধি নির্দিষ্ট করতে হবে এবং ঢাকার প্রতিটি এলাকায় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে সরকারকে। আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে এই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবো।’

সংলাপে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. মুসলেহ উদ্দীন হাসান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আব্দুর রব বক্তব্য দেন।

এমএমএ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।