প্রসঙ্গ বাংলাদেশ
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন’: চীন
‘নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা’র প্রসঙ্গ সামনে এনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার গত ৫০ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে এবং ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করেছে। এ সহযোগিতা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
চীনা দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানায়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে দুই দেশ ও তাদের জনগণের নিজস্ব বিষয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য করার অধিকার নেই।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার জন্য সহায়ক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত।
ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেওয়ার পর গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়টি তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, শুনানিতে আমি যেমন বলেছিলাম, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবো, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার বা নতুন নির্বাচিত সরকার হোক। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবো।
এর আগেও গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ শুনানিতে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
জেপিআই/এমকেআর