সিএনজির মিটার ‘জাদুঘরে’, দেখার সময় নেই পুলিশেরও
- বহু বছর ধরেই মিটারে চলে না সিএনজিচালিত অটোরিকশা
- ৫ আগস্টের পর রাখঢাক ছাড়াই মিটারবিহীন চলাচল
- মিটারে চলতে হলে জমা খরচ কমানো ও কিলোপ্রতি ভাড়া ভাড়ানোর দাবি
- সর্বশেষ ২০১৫ সালে নির্ধারণ হয়েছিলো সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া
- ৫ আগস্টের পর মবের ভয়ে মামলা দেয়নি পুলিশ
- সিএনজির মিটার তদারকিতে নেই পুলিশের পর্যাপ্ত জনবল
দেশে বহু বছর ধরেই মিটারে চলছে না সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ৫ আগস্ট পরবর্তীসময়ে অনেকটা ঘোষণা দিয়ে সিএনজি থেকে মিটার উধাও হয়ে গেছে। তখন মবের ভয়ে পুলিশও মামলা দেয়নি। বর্তমানে প্রায় সব সিএনজিচালিত অটোরিকশাই মিটারবিহীন।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও পুলিশ বলছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে চলছে কি না তা মনিটরিং করার চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জট তাদের হাতে রয়েছে।
চালকরা বলছেন, আন্দোলন করে তারা মিটার বন্ধ করেছেন। নতুন করে তারা আর মিটার চান না। যদি একান্তই মিটারে চলতে হয় তবে জমা খরচ কমাতে হবে, কিলোপ্রতি ভাড়া বৃদ্ধি করতে হবে। একইসঙ্গে বন্ধ করতে হবে পুলিশের ‘চাঁদাবাজিও’।

যাত্রী কল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দ্রুত মিটার ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত। সময় সুযোগ বুঝে যখন তখন যা ইচ্ছে তাই ভাড়া নিয়ে যাত্রীর গলাকাটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। নতুন সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়কে যদি গুড গভর্ন্যান্স না থাকে, সুশাসন যদি না থাকে, এ ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এটা এক ধরনের বিশৃঙ্খলা। এখানে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মিটার ছাড়া চলে যাত্রীর পকেট কাটা হচ্ছে। যে যেভাবে পারছে যাত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করছে।’
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সিএনজি এবং ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া মিটারে আদায় করা হয়। বাংলাদেশেও কিন্তু এই আইনের অধীনে গণপরিবহনগুলো চলে। তবে বাস্তবতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ট্যাক্সিক্যাবের মিটার কিন্তু জাদুঘরে চলে গেছে।’
আরও পড়ুন
অটোরিকশায় মিটারের বেশি ভাড়া নিলে মামলার নির্দেশ বিআরটিএ’র
সিএনজিচালকদের অবরোধে নগরীতে তীব্র যানজট, ভোগান্তি চরমে
সিএনজি অটোরিকশা চালকদের মামলা-জরিমানার সিদ্ধান্ত বাতিল
দৈনিক জমা ৯০০ টাকা কার্যকরের দাবি সিএনজি চালকদের
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিএনজিচালিত কোনো অটোরিকশায় এখন আর মিটার নেই। কোনো রাখঢাক না রেখেই চালকরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে মিটারে চলছে না সিএনজি। তারা আন্দোলন করে এই মিটার বন্ধ করিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিটারে না চললে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে ৫০ হাজার টাকার জরিমানার বিধান করা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এমন নির্দেশনা আসে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পুলিশকে ওই নির্দেশনা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চালকরা। পরে ওই নির্দেশনা স্থগিত করা হয়। এরপর থেকে রাখঢাক ছাড়াই মিটারবিহীনভাবে চলছে এই যানবাহন।
জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া সংশোধন করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সিএনজি ও পেট্রোলচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলারের ভাড়া নির্ধারণী এক প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বর্তমানে দৈনিক জমা ৯০০ টাকা। প্রথম ২ কিলোমিটারের ভাড়া ৪০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১২ টাকা। বিরতিকালীন প্রতি মিনিটের ভাড়া (ওয়েটিং চার্জ) ২ টাকা। আর যে কোনো দূরত্বে যাত্রী পরিবহনে বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ন ভাড়া ৪০ টাকা। ভাড়ার এই হার ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

তবে অটোরিকশাগুলো এখন যেমন মিটারে চলছে না, তেমনি চালকদের কাছ থেকে মালিকরাও সরকার নির্ধারিত জমার চেয়ে বেশি হারে জমা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে চিত্র
রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা অপেক্ষা করছে। দরদাম হাঁকিয়ে যাত্রী তুলছেন। সেখানে কথা হলে অটোরিকশাচালক নসু জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিটারে না চালানোর কারণ মিটার পাস করেছে ২০০৪ সালে। তখন দ্রব্যমূল্য কম ছিল। তখনকার সময়ের সঙ্গে এই মিটার সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। এখন বাজারদর বেশি। এখন মিটারে চালিয়ে পোষানো যায় না। মিটারে সারাদিন চালিয়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বিল আসে। আমাদের জমাই ১ হাজার ২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কী? ছেলেমেয়ে পালবো কীভাবে? মহাজনের জমাই ১ হাজার ২০০ টাকা। এজন্য মিটারে আমাদের পুষে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি মিটার আপডেট করে তাহলে চালানো যেতে পারে। ওয়েটিং ৫ টাকা ও কিলোপ্রতি ভাড়া ২২ টাকা করা হয় তাহলে চালানো যেতো। আগে কিলোপ্রতি ছিল ১০ টাকা ও ওয়েটিং ছিল ২ টাকা। সেজন্য পোষাতো না।’
আরও পড়ুন
সিএনজির নতুন ভাড়া কার্যকর হচ্ছে আজ
আমরা নই, সিএনজি মালিকরাই যাত্রীদের জিম্মি করেন
বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিক্ষোভ
কমেছে যাত্রী, তবুও মিটারে চলে না সিএনজি অটোরিকশা
নসু আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে মিটার একদম বন্ধ। পোষায় না, তাই মিটারে চালাই না। ৫ আগস্টের পর সিএনজিচালকরা একটি আন্দোলন করে, পরে মিটার বন্ধ হয়ে গেছে।’
ফার্মগেট এলাকায়ও একই রকম চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও চালকরা যাত্রীদের ডাকাডাকি করছেন এবং ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করছেন। যিনি কম দামে যাচ্ছেন যাত্রীরা সেই সিএনজিতে উঠছেন।
সেখানে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। ১৬ বছর ধরে অটোরিকশা চালান তিনি। জাগো নিউজকে জসিম বলেন, ‘মিটারে পোষায় না। গাড়ির জমা বেশি। বর্তমানে গাড়ির জমাই বারোশ টাকা। মিটারে চালালে সারাদিনে বারোশ টাকার ভাড়া মারা যায় না।’

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিআরটিএতে গিয়েছিলাম। সব গাড়ির মালিক ও ড্রাইভাররা মিলে গিয়েছিলাম। তাদের জানিয়েছি। মিটার যদি চলে তাহলে রেক্টিফাই করেন। তখন তারা বলেছে, যেহেতু সরকার নেই, তাহলে মিটার অফ রাখেন। নির্বাচিত সরকার এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই থেকে মিটার অফ রয়েছে।’
একই এলাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক বলেন, ‘শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর থেকেই মিটার নেই। মিটার দিয়ে সিএনজি চালালে আমাদের পেরেশানি হয়। সার্জেন্টরা ডিস্টার্ব করেন। মিটারে চালালে জমা ওঠানো যায় না। মিটারে তো আমরা লুকোচুরি ট্রিপ দেই। অনেক সময় মিটার থাকলেও কন্টাকে ভাড়া মারি। তখন সার্জেন্ট ধরলে মিথ্যা বলতে হয়। নতুবা মামলা দেয়।’
২৫ বছর ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালান খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা লাল মিয়া। আগারগাঁও এলাকায় কথা হলে লাল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘মিটারে ভাড়া মারলে পোষায় না। মিটারে মারতে হলে জমা হতে হবে হাফ। জমা হতে হবে ৫০০ টাকা, সেই জায়গায় এখন দেই ১ হাজার টাকা বা ১ হাজার ২০০ টাকা। যেহেতু আমরা লুকোচুরি করে ট্রিপ মারি, সার্জেন্টরা ধরলে মিটারের মামলা দিয়ে দেয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। এখন তো মিটার না থাকলেও মামলা নেই। আমরা আন্দোলন করে মিটার অফ করেছি।’
আরও পড়ুন
নিবন্ধনসহ ১০ দফা দাবিতে সিএনজিচালকদের মানববন্ধন
সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ৩ গুণ
সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বাড়াতে পাঁয়তারা করছে বিআরটিএ
বাইরের অটোরিকশা প্রবেশে আপত্তি ঢাকা মহানগর মালিক সমিতির
লাল মিয়া আরও বলেন, ‘পাঠাও ও উবার চলে, মোটরসাইকেল চলে, অটো চলে; আমাদের যাত্রীরা এখন এসব দিয়ে চলে যায়। তিন গাড়ি যদি আমাদের পেসেঞ্জার নিয়ে যায়, আমাদের আর কোনো পেসেঞ্জার থাকে না। যাও থাকে, আগে থেকে যারা চড়ে আসছেন, তারাই চড়েন। অটো ও হুন্ডায় চলে যান যাত্রীরা, ফলে আমাদের জমা-ই ওঠে না।’
সেগুনবাগিচা এলাকায় কথা হলে সিএনজিচালক ইয়াছিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে মিটার ছাড়া সিএনজি চালাচ্ছি। মিটারে গেলে পুষে না। এটি আগের মিটার। মিটারে যেতে হলে জমা কমাতে হবে, বা মিটারের চার্জ ও ওয়েটিং চার্জ বাড়াতে হবে। জমা কমালে মিটারে চালানো যাবে। দিনে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার গ্যাস লাগে। তাহলে মিটারে গিয়ে কীভাবে পুষাবে? মিটারে পুষায় না, তাই মিটার বাদ দিয়া দিছি। সরকার বাদ দিছে।’
তিনি বলেন, ‘মিটার নিয়ে মাঝে আন্দোলন হয়েছে। ফলে মিটার আপাতত বাদ রয়েছে। মিটার চালু করবে আবার, ওয়েটিং চার্জ বাড়াবে ও জমা কমিয়ে আবারও মিটার চালু করতে পারে।’

আরেক সিএনজিচালক বাবলু বলেন, ‘মিটারে গাড়ি চালালে অনেক প্রশ্ন। মিটারে কেউ যাবে না, আপনি বলবেন- চলেন, মিটারে যান। মিটার থাকলো, কন্টাকে গেলাম। সার্জেন্টে ধরবে, ২ হাজার টাকার মামলা দেবে। আবার মামলা থেকে বাঁচতে আপনাকেও মিথ্যা কথা বলতে হবে, আমাকেও মিথ্যা কথা বলতে হবে। মিথ্যা কথা বলতে হবে বলে মিটারে গাড়ি চালাই না। মিটার চালু হলে গাড়িই চালাবো না, সিএনজি চালানো বাদ দিয়া দেবো। দরকারই নেই মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করার। এখন ২৫০ টাকার ভাড়া কখনও ২০০ টাকা দিয়ে আসি, আবার ২৫০ টাকার ভাড়া কখনও ৩০০ টাকা দিয়ে যাই, এতে কোনো ঝামেলা নেই, একটা অন্য রকম শান্তি। মিটারে চললে গাড়িই চালাবো না।’
মহাখালীতে কথা হয় সিএনজির যাত্রী মোজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। প্রতিদিনই তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করেন। জাগো নিউজকে মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মিটারে কবে ভাড়া দিয়েছি বলতে পারবো না। মনে হয় না আমার জীবনে কোনো দিন মিটারে সিএনজিতে চলতে পেরেছি। মিরপুর থেকে প্রতিদিন মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে যাতায়াত করি। একেক দিন একেক রকম ভাড়া। যেদিন রাস্তায় কোনো ঝামেলা থাকে সেদিন তাদের ঈদ। এভাবে চলতে পারে না।’
বিমানবন্দর রেলস্টেশনের সামনে কথা হলে কিশোরগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী সজীব হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্রামের বাড়ি থেকে এলাম। সব সিএনজি ভাড়া বেশি চাচ্ছে। ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া চাচ্ছে ৩৫০ টাকা। এটি হয় না। আড়াইশ টাকা হলেই এনাফ। মিটারে থাকলে ভালো হতো। প্রকৃতপক্ষে যা ভাড়া তাই দেওয়া যেত। মিটার থাকলে হয়তো আমাদের সঙ্গে এই অন্যায় হতো না।’
আরও পড়ুন
ভাড়া মিটারে চলে না সিএনজিচালিত অটোরিকশা, যাত্রীদের হয়রানি
মিটারেই চলুক সিএনজি অটোরিকশা
সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী ভোগান্তি : চুক্তি না হয় বকশিশ
চট্টগ্রামে মিটারে চলছে না সিএনজি অটোরিকশা
মবের ভয়ে মামলা করেনি পুলিশ
৫ আগস্টের আগে ও পরে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এমন একজন পুলিশ সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে আমরা মিটার চেক নিয়ে মামলা করতাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে সিএনজিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যাপস ছাড়া গেলে আগে মামলা দেওয়া হতো, ৫ আগস্টের পরে রাইড শেয়ারিংয়েও আমরা আর মামলা করিনি। কারণ ওইসময় যখন তখন মব তৈরি হয়ে যেতো। মবের ভয়ে আর কেউ মামলা করতো না।’
জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘যদি গভীরভাবে দেখেন বহু বছর ধরেই সিএনজি মিটারে চলে না। দেখা যাবে এখন অধিকাংশের মিটার নষ্ট, মিটার নেই এবং এরা মিটার ছাড়াই চলাচল করে।’
‘সড়কে আমাদের সমস্যা পুঞ্জীভূত আছে। এটি নিয়ে খুব বেশি কাজ করার মতো অবস্থায় আমরা নেই। বাসের সংখ্যা বেশি, সড়কে লক্কর-ঝক্কর গাড়ি, পুরোনো গাড়ি- এগুলো নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’

আনিছুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রতিটি সিএনজি চেক করে মিটার আছে কি নেই, সেটি পুলিশের জন্য অত্যন্ত কঠিন। রাস্তায় যখন চলবে, চলার আগে ফিটনেস তো আমরা দেই না। এর দায়িত্ব সবার।’
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত জনবলও এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
আরও পড়ুন
চ্যালেঞ্জের মুখে সিএনজি অটোরিকশা চালক-মালিকরা
তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা
ভাটার সময়ও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে সিএনজি অটোরিকশা
মিটারে চলে না কোনো সিএনজি অটোরিকশা
যা বলছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি
পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের ট্রাফিক বিভাগ আছে, তারা সড়কে আছে; তো আপনার এটা তো মনিটরিং করতে হবে। যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে কি না বা মিটার ছাড়া সিএনজি চালাচ্ছে কি না, তা পুলিশকে তদারকি করতে হবে। আইনের সুশাসন থাকলে এভাবে আসলে চালানোর কোনো সুযোগ নাই। কারণ নীতিমালা আছে এবং বিআরটিএ এই নীতিমালাটা তৈরি করেছে।’
বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘একই সঙ্গে আমি বলব এখানে মালিকের একটা বড় দায় আছে। নীতিমালাতে সিএনজির মালিক প্রতিদিন দৈনিক কতটা জমা নেবেন তা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে তার নিজের মতো করে জমার টাকা নির্ধারণ করেন। এতে চালকের ওপরও একটা চাপ তৈরি হয়। একদিকে মালিকের চাপ, অন্যদিকে সড়কে চাঁদাবাজি আছে বিভিন্নভাবে। এতে চালক বাধ্য হয়ে মিটার বন্ধ রেখে যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। সড়কে সুশাসন বা গুড গভর্ন্যান্স না থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে। নতুন সরকারকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রচলিত সব আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন তো অনেক যাত্রী, এমনকি মালিকও চেনেন না সিএনজির মিটার কী? সরকার কর্তৃক ভাড়া নির্ধারণের একটা বিধিবিধান আছে ও ভাড়া কীভাবে আদায় করবে তারও একটা নিয়ম আছে। সিএনজিচালকরাও ৫ আগস্টের পরে বেপরোয়া হয়ে গেছেন। ৫ আগস্টের পরে কিছু কিছু চালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, এখন তো সরকার নেই, তাহলে মিটার কীসের। এরকম ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মিটার নিয়ে নতুন সরকারের করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘চালকরা যাতে আইন ও বিধিবিধান মেনে চলেন নতুন সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে। আইন না মানলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’
ইএইচটি/এমএমএআর