সামাজিক নিরাপত্তা

দ্বিগুণ হচ্ছে ক্যানসার-কিডনির চিকিৎসা সহায়তা, বাড়ছে উপকারভোগী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিসসহ গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারের আর্থিক সহায়তা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়।

এর পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, প্রতিবন্ধী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, মা ও শিশু, মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাতা ও সহায়তার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এসব উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি খাতে ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ৯০ বছরের ঊর্ধ্ব দুই লাখ পাঁচ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক এক হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

একই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে মোট ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। এছাড়া ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক এক হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক এক হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রাথমিকে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে এক হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে এক হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে এক হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত আরেক কর্মসূচি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা সাত হাজার বৃদ্ধি করে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বৃত্তির মাসিক হার প্রাথমিকে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে এক হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে এক হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ হাজার ৪৯০ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সদস্যকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা পাঁচ লাখ বৃদ্ধি করে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবার মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে মোট ছয় মাস পাবে।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।

সেই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে দুই লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এমএএস/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।