স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নির্বাচনে কোনো প্রার্থী থেকে খাবার-আর্থিক সুবিধা নেওয়া যাবে না
নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ তো দূরের কথা, দায়িত্ব পালনকালে তাদের প্রতিনিধির কাছ থেকেও কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্ত হাতে দমন করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। যদি আস্থা হারায়, তবে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়, এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও অবৈধ ও বেআইনি আদেশ মানা যাবে না- সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করতে হবে। তারা যেন কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করেন- এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো খাবারও গ্রহণ না করেন- সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারের পরামর্শ মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। সেলে জরুরি যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর: ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২-৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩ এবং মোবাইল নম্বর: ০১৫৫০-০৬৪২২৬ (Whats app) ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোনো অভিযোগের জন্য নম্বরগুলোতে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা (ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগ) পর্যন্ত চলবে। নির্বাচনি প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা চাই, সবাই মিলে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে যেটি বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে রোলমডেল হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগীকরণ; ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ; নির্বাচনিসামগ্রী যথাসময়ে ভোটকেন্দ্র পৌঁছানোসহ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব প্রকার সহযোগিতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।
তাছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের দ্রুত প্রবেশ করা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকরা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারে। এ বিষয়ে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টিটি/এমআইএইচএস