ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র সুনসান, কড়া নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই দেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জামাদি। রাজধানীর কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে কড়া নিরাপত্তা বলয়।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-১৩ আসনের আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভোটকেন্দ্র এবং সরকারি সংগীত কলেজ কেন্দ্র ও ঢাকা-১২ আসনের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে সম্পূর্ণ নীরবতা। কেন্দ্রের আশপাশে কোনো লোকসমাগম নেই। প্রধান ফটক আটকে ভেতরে গেটের পাশেই বসে আছেন নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। কেন্দ্রের ভেতরে রয়েছেন অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভোটকেন্দ্র এবং সরকারি সংগীত কলেজ কেন্দ্র ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া কেন্দ্রের আশপাশ দিয়ে সেনাবাহিনীর পেট্রোল টিমকে ঘুরতে দেখা গেছে।

জাতীয় সংসদীয় আসন ঢাকা-১৩ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। কেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়াও সারাদেশের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনি অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক এরই মধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।

কেআর/এমআইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।