ভোটারদের টাকা বিতরণ, জামায়াত নেতার দুদিনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আটক সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিব/ছবি সংগৃহীত

ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে টাকা বিতরণের সময় আটক সূত্রাপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিবকে দুদিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে। পরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট তাকে দুদিনের সাজা দেন।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হাবিব নামে একজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তার কাছে টাকা পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি চালের দোকানে ভোটারদের কাছে টাকা বিতরণ করছিলেন হাবিব। এ সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুইদিনের কারাদণ্ড দেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে একটি চালের দোকানের ভেতরে এক ব্যক্তিকে ১০০ টাকার নোট খামের মধ্যে ভরতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত লোকজন অভিযুক্ত নেতাকে প্রশ্ন করেন, ‘খামের ভেতরে কেন টাকা রাখা হচ্ছে?’ জবাবে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ভোট চ্যালেঞ্জ করলে সরকারিভাবে ১০০ টাকা ফি জমা দিতে হয়, তাই খামের মধ্যে টাকা রাখা হচ্ছে।’

এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তাহলে প্রতিটি খামে কেন ৫০০ টাকা করে রাখা হয়েছে?’ তবে এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে দেখা যায়নি।

jagonews24সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান

এদিকে এ ঘটনার পর ঢাকা-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোট কেনার অভিযোগে অস্বীকার করে বিএনপির বিরুদ্ধে মব তৈরির অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জাল ভোট চ্যালেঞ্জ করার জন্য আমাদের পোলিং এজেন্টদের কাছে যে অর্থ দেওয়ার কথা ছিল, সে সময় আমাদের লোকজন সেই অর্থই খামে রাখছিলেন। এমন সময় বিএনপির লোকজন এসে মব তৈরি করে। এ ঘটনায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুবলি স্কুলের একটি ভোটকেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টরা নির্বাচনি কার্ডে স্বাক্ষর করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় সেখানে মব তৈরি করে পোলিং এজেন্টদের আটকে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।

জামায়াত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ঢাকা-৬ আসনে মোট ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে এখনো সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। এসব কেন্দ্র অতীতেও বিভিন্ন সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মব তৈরির অভিযোগের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে রাতেই লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে। পাশাপাশি পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমডিএএ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।