আসছে নতুন সরকার, যেমন মন্ত্রী চান সবাই

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা মাসুদ রানা , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে বিএনপি, ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গঠন হচ্ছে নতুন সরকার। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সামনে রেখে দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন, মন্ত্রীদের কেমন হওয়া উচিত? শুধু রাজনৈতিক ভারসাম্য নয়, মানুষ এখন চায় যোগ্যতা, সততা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে গঠিত একটি কার্যকর নেতৃত্ব। শিক্ষক, গবেষক, সাবেক আমলা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সবার কথায়ই প্রতিফলিত হচ্ছে এই প্রত্যাশা। রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন মন্ত্রী তারা চান, যারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন, দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করবেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে সরকার গঠন করতে যেখানে অন্তত ১৫১টি আসন প্রয়োজন, সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনের সমর্থন পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে যাচ্ছে।

মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগের বিষয়ে সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রথম হলো যারা আর্থিকভাবে সুনামধারী এদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যাদের আর্থিক কোনো দুর্নীতি নেই বা যারা দুর্নীতি করবে না তাদের সবার আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। দুই নাম্বার হবে মনে করেন অভিজ্ঞতা; যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদেরকে দেওয়া।’

jagonews24

‘তিন নম্বরে হলো আচার-ব্যবহারও দেখা দরকার। একজন মন্ত্রী মার্জিত হবেন, সুশীল হবেন। কাজ করবেন, থাকবেন কিন্তু বাহ্যিকভাবে মার্জিত সুশীল, এরকম হবেন। এরপর চার নম্বরে ধরেন কিছু তরুণ নেওয়া দরকার। নতুন তরুণ যারা এদের থেকেও কিছু নেওয়া দরকার, তাদেরকে প্রতিমন্ত্রী করা যেতে পারে।’

কাউকে মন্ত্রী করার ক্ষেত্রে শারীরিক সামর্থ্যটাও দেখা দরকার জানিয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘এ রকম হয়েছে যে মন্ত্রী মহোদয় একটার আগে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। এ রকম লোক দিয়ে তো সরকার ভালো চলবে না। একটু ডায়নামিক হওয়া দরকার।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দক্ষ, সৎ, শিক্ষিতদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এটা সব স্তরের মানুষের প্রত্যাশা।’

jagonews24

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়- এই চারটা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত যোগ্য লোক দিয়ে বসানো দরকার। অত্যন্ত যোগ্য, দ্য বেস্ট কোয়ালিটি পিপলদের এ সব জায়গায় বসানো দরকার।’

আরও পড়ুন:

মন্ত্রিসভার আকার কেমন হওয়া উচিত? 

সব শঙ্কা কাটিয়ে শান্তিপূর্ণ ভোটে জনআস্থা 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা থাকবে, মন্ত্রিসভায় এমন ব্যক্তিরা থাকবেন যারা সৎ, আত্মবিশ্বাসী, উদ্ভাবনী চিন্তাসম্পন্ন এবং দায়িত্বশীল। তারা যেন নিজেদের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন এবং অধীনস্থদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি এবং থিংক ট্যাংক যখন সরকারের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ বা সমালোচনা করবে, তখন সেটিকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার, বিরোধী দল, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম সবাই মিলে একটি জবাবদিহিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলে। সংসদীয় তদারকি শক্তিশালী হলে এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে সরকার জনগণের যে আস্থা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে।’

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘এক হচ্ছে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মন্ত্রিসভায় আনা। যে যেদিকে অভিজ্ঞ সেই বিষয়ে মন্ত্রী বানালে ভালো হবে। মন্ত্রীদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততাটা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘অর্থ, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র এই তিনটা মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মেনে করি। সেখানে যাতে দক্ষ লোকজন বসানো হয়। তাহলে তারা ভালো চালাতে পারবে। আর এখন তো জনপ্রশাসনটা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। এই জনপ্রশাসনকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য তো দক্ষ লোক দরকার। জনপ্রশাসন হয়তো বা প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই থাকবে আপাতত, তবে প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারে।’

আরও পড়ুন:

নতুন সরকারের কাছে শান্তি ও স্বস্তি চায় সাধারণ মানুষ 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা বলছেন দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা 

মিরপুরের রাইড শেয়ারিং চালক রিদওয়ান হোসেন বলেন, ‘তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য পয়েন্টে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে বাধ্য হন, যার পরিমাণ ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় পুলিশও অযথা হয়রানি করে এবং কখনো কখনো অবৈধভাবে মামলা দায়ের করে, যার ফলে দিনের উপার্জনের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়।’

jagonews24

সড়ক পরিবহন খাতে এমন একজন মন্ত্রী দেখতে চান রিদওয়ান হোসেন, যিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং সর্বস্তরে দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

রিদওয়ান আরও বলেন, অতীতে অনেক বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি, বরং দুর্নীতিই বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা মেধা ও সততার ভিত্তিতে গঠিত হবে এবং সেখানে সৎ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হবে।

 আরএমএম/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।