জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে: রেঞ্জ ডিআইজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ১০ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পুরো এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আহসান হাবীব পলাশ এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার দুর্গম পাহাড়ে বড় ধরনের বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকা অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি এক র‍্যাব সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসীদের আধিপত্য ভেঙে জনমনে দীর্ঘদিনের ভীতি দূর করা এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত সংগঠিতভাবে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরদারি করত। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং একাধিক বের হওয়ার পথ থাকায় কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তারা।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি ও ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান। এছাড়া তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং প্রায় ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি ককটেল ও অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়া ঠেকাতে সেখানে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন থানা বা অন্তত একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলেন, যারা বিভিন্ন সময় অপরাধ করে এই এলাকায় আশ্রয় নিত, ভবিষ্যতে তারা আর সেখানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবে না। পলাতক ব্যক্তিদের ধরতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এমআরএএইচ/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।