ফেব্রুয়ারিতে দুদকের জালে ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার সম্পদ
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় দেড়শ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
২০২৪ সালে ক্ষমতার পট-পরিবর্তনের পর দুদকের অনুসন্ধান ও মামলায় গতি আসে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয় দুদক। চলমান বিভিন্ন অনুসন্ধান ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ আদালতের নির্দেশনায় ক্রোক বা অবরুদ্ধ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় কমিশন।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা অতীতে এত অল্প সময়ে হয়নি। ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২০টি আদেশে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। একই সময়ে আদালতের ১৫টি আদেশে ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ে মোট ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ একর জমি, যার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এছাড়া, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনশেড ঘর, দুটি দোকান এবং ছয়টি গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি খেলার মাঠ ও একটি স্কুলের মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি ব্যাংক হিসাব, যেখানে জমা রয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বীমা পলিসিসহ নানা আর্থিক সম্পদ রয়েছে।
সব মিলিয়ে অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক।
এসএম/এএমএ