রাজধানীর ‘মিনি কক্সবাজারে’ বিনোদন পিয়াসী মানুষের ঢল

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা মাসুদ রানা , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ২২ মার্চ ২০২৬
ডেমরার ধার্মিকপাড়ায় বিনোদন স্পট ‘মিনি কক্সবাজার’

 

অপরিকল্পিত উন্নয়নে মেগাসিটি ঢাকায় মানুষের বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। কোথাও ছিটেফোঁটা সুযোগ মিললে সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েন বিনোদন পিয়াসী নগরবাসী। ঢাকার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে ডেমরার ধার্মিকপাড়ায় এমনই এক বিনোদন স্পট ‘মিনি কক্সবাজার’। সেখানে নেমেছে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আশপাশের এলাকার মানুষের ঢল। ঈদের পরদিন রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে সেখানে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ৪ কিলোমিটারের মতো গেলেই কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড। কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি সড়ক চলে গেছে মানিকদীর দিকে। এ সড়ক ধরে উত্তর দিকে ২ কিলোমিটারের মতো গেলেই ধার্মিকপাড়া। ধার্মিকপাড়ায় সড়কের পশ্চিম পাশে মিনি কক্সবাজার। কোনাপাড়া-মানিকদী সড়ক হয়ে একেবারে মান্ডা মুগদা পর্যন্ত যাওয়া যায়। এ সড়কে শুধু অটোরিকশা চলে। 

এখানে বিলের মত একটি জলাশয় রয়েছে। সেখানে নৌকায় ভ্রমণের ব্যবস্থা আছে। মূলত এ কারণে এটিকে মিনি কক্সবাজার বলা হয়। এছাড়া জলাশয়ের পাশে বিশাল জায়গায় জুড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক পার্ক। পার্কে রয়েছে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড। এছাড়া রয়েছে স্ট্রিটফুড, শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দোকান।

নৌকা ও প্যাডেল বোটের ভাড়া ৩০ মিনিট ৩০০ টাকা। প্রতি মিনিট ১০ টাকা করে। দুটি ঘাট থেকে নৌকায় চড়া যায়। 

ডগাইর এলাকা থেকে সপরিবারে এসেছেন হামিদুল ইসলাম। নৌকায় চড়ার জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। হামিদুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। তাই এখানে আসলাম। অল্প একটু পথ কিন্তু আসতে এক ঘণ্টার মতো লেগেছে। এত জ্যাম। ৩০ মিনিট নৌকা ভাড়া ৩০০ টাকা। ভাড়াটা অনেক বেশি, কিন্তু এটাও পাওয়া যাচ্ছে না, মানুষের এত ভিড়।

মিনি কক্সবাজার বিনোদন কেন্দ্রে রয়েছে চরকি, নৌকা দোলনা, জাম্পার, স্লিপার, ট্রেন, শিশুদের নৌকা চালানোসহ নানান রকমের রাইড।

সাম্পান নৌকার দোলনার ফি ৬০ টাকা। স্লিপারে শিশুরা ১০০ টাকার বিনিময় ১৫ মিনিট খেলতে পারে। পার্কের মধ্যে ছোট্ট চৌবাচ্চায় শিশুরা ৫০ টাকার বিনিময়ে পাঁচ মিনিট নৌকা চালাতে পারে। এছাড়া পাশে রয়েছে কোনাপাড়া শিশুপার্ক। সেখানেও একই ধরনের রাইড রয়েছে।

পার্কের ভেতরে এবং আশপাশে ফুচকা, চটপটি, আচারসহ বিভিন্ন স্ট্রিট ফুডের দোকান রয়েছে। শিশুদের খেলনা বিক্রি ও ফুলের দোকানও দেখা গেছে।

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে এক ছেলে এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন সাজিদুল হক। তিনি একটি ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে কাজ করেন। 

সাজিদুল বলেন, সুস্থ বিনোদনের কোনো মাধ্যম এই শহরে নেই বললেই চলে। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী তো একেবারেই অবহেলিত। ঈদের ছুটিতে কোথায় যাব? এটা কাছে হাওয়ায় আসলাম। এত মানুষ এখানে বিনোদনের জন্য আসে, কিন্তু চলাচলের রাস্তাটিতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। বলতে গেলে কোনাপাড়া থেকে স্পট পর্যন্ত পুরো রাস্তাটাই জ্যাম। প্রশাসনের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। 

তিনি আরও বলেন, রাইডগুলোতে ইচ্ছে মত ফি নেওয়া হয়। এরপরও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। মানুষ কী করবে, বিকল্প তো কিছু নেই।

ঈদের ছুটিতে মিনি কক্সবাজারে মানুষের ঢল নামায় অপ্রশস্ত সড়কটিতে অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রোববার বিকেল ও সন্ধ্যায় অনেকেই হেঁটে স্পটে যেতে এবং সেখান থেকে ফিরতে দেখা গেছে।

আরএমএম/জেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।