কাতার আমিরের কাছে সংহতিপত্র পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বরাবর একটি সংহতিপত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার কাছে এ সংহতিপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
সংহতিপত্র উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কাতারের যে কোনো প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও মে মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় কাতারের আমিরের মহানুভবতার কথাও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও মানবিক কূটনীতিতে কাতারের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া কাতারে বসবাসরত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীকে নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য দেশটির সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে রোববার (২৯ মার্চ) এক সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। সফরকালে উপদেষ্টা কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এ সময় উপদেষ্টা সাম্প্রতিক একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় কাতারের শ্রমমন্ত্রীর নিকটাত্মীয় মৃত্যুবরণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসও পরিদর্শন করেন এবং কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।
তার এই সফর দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারত্ব আরও গতিশীল করবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএ