সরকার তেল দিচ্ছে, মজুতদারদের কারণেই সংকট, বলছেন পাম্প মালিকরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫২ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬
অবৈধ মজুতদারদের কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই, সরকার নিয়মিত তেল সরবরাহ করছে তবে কিছু মজুতদারের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, গুজব ও আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং অবৈধ মজুতের কারণে অনেক জায়গায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এজন্য সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে তেল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে গুলফেশা প্লাজায় সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এসময় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বর্তমানে যাত্রী পরিবহনের পরিবর্তে পেট্রোল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছেন। পরে সেই পেট্রোল বা অকটেন খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন কিংবা বোতলে ভরে মজুত করছেন। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, আগে যে পরিমাণ চাহিদা ছিল, সেই অনুপাতে সরকার তেল সরবরাহ করে আসছিল এবং এখনো একইভাবে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন গ্রাহকদের চাহিদা দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এমনকি বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়েও তেল মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ধ্যার পর পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি করতে গিয়ে প্রায়ই কিছু দুষ্টু চক্রের উৎপাত দেখা যায়। তারা পাম্পে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, ফলে অন্য গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভোগান্তি বাড়ে। এ কারণে পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল বিক্রির সময়সীমা নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে সোমবার (৩০ মার্চ) সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার অবৈধ মজুতকৃত জ্বলানি তেল জব্দ করা হয়।

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা চলছে। ফলে গোটা বিশ্বে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ইএআর/এসএনআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।