জ্বালানি সংকটে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী রুটে স্বাভাবিক লঞ্চ চলাচল ব্যাহত
জ্বালানি সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী রুটে অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেক লঞ্চ নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরেও প্রয়োজনীয় ডিজেল মিলছে না। ছোট লঞ্চে দৈনিক ৬০ থেকে ৮০ লিটার এবং বড় লঞ্চে ২০০ থেকে ২৫০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হলেও পাম্পগুলো থেকে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ লিটারের বেশি দেওয়া হচ্ছে না। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে খুচরা ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে লঞ্চ মালিকদের। আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ১২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি লঞ্চে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জোনের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল মেঘনা পেট্রোলিয়ামের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপককে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর থেকে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো তীব্র ডিজেল সংকটে পড়েছে। এর ফলে অনেক লঞ্চ সময়মতো চলাচল করতে পারছে না এবং কিছু লঞ্চ যাত্রা বাতিল করছে, এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী প্রতিটি লঞ্চের জন্য গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় লঞ্চঘাটে ডিজেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নরসিংদী-সলিমগঞ্জ রুটে প্রতিদিন ১৪টি লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিটি লঞ্চে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও সংকটের কারণে এই রুটেও নিয়মিত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে একাধিক লঞ্চ মালিক জানান, সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এমনিতেই যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। তার ওপর অবৈধ স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌযানের কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন করে জ্বালানি সংকট ‘খাঁড়ার ওপর মরার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা বলেন, বাড়তি দামে ডিজেল কিনে লঞ্চ চালাতে গিয়ে লাভ তো দূরের কথা, খরচই তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
নরসিংদী সলিমগঞ্জ রুটের নিয়মিত যাত্রী লোকমান হোসেন জানান, ঈদের সপ্তাহখানেক আগে নরসিংদী লঞ্চঘাটে এসে দেখেন লঞ্চের টাইম থাকলেও জ্বালানির অভাবে লঞ্চটি সলিমগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে না। গন্তব্যে যাওয়া জরুরি থাকায় তিনি ৯০ টাকা লঞ্চ ভাড়ার বদলে ২০০ টাকা স্পিডবোটে ভাড়া দিয়ে সলিমগঞ্জ যান।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমইউ/এমআইএইচএস