ভালো ঘুমের জন্য বেডরুমে ছোট পরিবর্তন আনুন
ভালো ঘুম এখন অনেকের কাছেই একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারও ঘুম সহজে আসে না, আবার অনেকের ক্ষেত্রে ঘুম এলেও মাঝেমধ্যে হঠাৎ ভেঙে যায়। ফলে টানা ঘুম না হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনেও। শরীরে এনার্জির অভাব দেখা দেয়, মেজাজ চিড়চিড়ে হয়ে থাকে এবং কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়।
ভালো ঘুম পাওয়ার জন্য অনেকেই নানা উপায় চেষ্টা করেন। কেউ ঘুমের রুটিন ঠিক করার চেষ্টা করেন, আবার কেউ বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতিও অনুসরণ করেন। কিন্তু সব সময় এই পদ্ধতিগুলো কার্যকর হয় না।
তবে অনেকেই জানেন না, ভালো ঘুমের সঙ্গে বেডরুমের পরিবেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ঘরের আলো, রং, বিছানা বা সামগ্রিক পরিবেশই ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। তাই যদি ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে বেডরুমে কিছু ছোট পরিবর্তন আনতে পারেন।

বিছানা
প্রতি দিন নরম তুলতুলে বিছানায় ঘুমোলে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হতে পারে। তাছাড়া, নরম বিছানায় ঘুমোচ্ছেন মানেই যে দারুণ ঘুম হবে, তা কিন্তু নয়। বরং বিপরীতও হতে পারে। শোয়ার পর দেখবেন বিছানা ডুবে না যায়। জাজিম এবং তোশক একসঙ্গে ব্যবহার করেন অনেকেই। সেটা না করাই ভালো। শুধু জাজিম কিংবা তোশক ব্যবহার করুন। ম্যাট্রেসও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেটা ভালো মানের ম্যাট্রেস হতে হবে। না হলে ঘুম আসার বদলে চলে যাবে।
বালিশ
ঘুম যাতে ভালো হয়, তার জন্য বালিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন বালিশ বেছে নিন, যাতে ঘাড়ে কোনো অস্বস্তি না হয়। অনেকেই বড় বড় বালিশ ব্যবহার করেন। দরকার না হলে আয়তনে বড় বালিশ ব্যবহার না করাই ভালো। ছোট বালিশ মাথা রেখে ঘুমানোর আলাদা একটা স্বস্তি তৈরি করে। অনেক সময় বালিশের এক দিকে ঘুমাতে ঘুমোতে ওই জায়গাটি গর্ত মতো হয়ে যায়। তাই মাঝেমাঝেই পরিবর্তন করা জরুরি। তাতে ঘাড়ে ব্যথার ঝুঁকি কমে।
বেডশিটের রং
অনেকের ক্ষেত্রেই এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। খুব বেশি উজ্জ্বল রঙের বিছানার চাদর অনেক সময়ই ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত ডিজাইন বা উজ্জ্বল রং এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
আয়নার ব্যবহার
ঘরে আয়না থাকলে ঘুমানোর আগে সেগুলো ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন ।অনেক সময় তার রিফ্লেকশনেও ঘুমের অস্বস্তি হয়। নিজের প্রতিচ্ছবি চোখে পড়লে তা মানসিক অশান্তি বাড়াতে পারে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ঘর গুছিয়ে রাখুন
অগোছালো ঘরও ঘুমের বড় শত্রু। শোয়ার ঘরে যদি বেশি জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, তাহলে অস্তিত্ব লাগতে পারে। ফলে ঘুম হালকা হয়ে যায় এবং সকালে সতেজ লাগেনা। তাই ঘর পরিষ্কার ও গুছিয়ে রাখা জরুরি।
উজ্জ্বল রং ও আলো
রঙের ক্ষেত্রেও সতর্কতা দরকার। খুব গাঢ় বা উজ্জ্বল দেয়ালের রং এবং প্রখর আলো মস্তিষ্ককে উত্তেজিত রাখে, যা ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। খুব উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের বদলে হালকা, শান্ত রং ব্যবহার করলে মন শান্ত থাকে এবং ঘুম ভালো হয়।
জানালার সঠিক পর্দা না থাকা
বাইরে থেকে আসা আলো বা রাস্তার আওয়াজ ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়, তাই ভারী ও অন্ধকার পর্দা ব্যবহার করা উচিত।
বেডরুমে প্রযুক্তির ব্যবহার না করা
প্রযুক্তির ব্যবহারও এক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। তাই শোয়ার আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে থাকা থাকুন
শুধু শরীর নয়, আপনার শোয়ার ঘরের পরিবেশও ঘুমের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন ক্লান্তি নিয়ে দিন শুরু হলে, একবার নিজের বেডরুমের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ছোট পরিবর্তনেই মিলতে পারে বড় সমাধান।
সূত্র: স্ট্যানফোর্ড লাইফস্টাইল, বেটার স্লিপ ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:
পুরো পরিবার বাদে শুধু সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া কেন জরুরি
মিডনাইট টি থিওরি, সম্পর্কে মানসিক গভীরতা বৃদ্ধি করে
এসএকেওয়াই