‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আর কতদিন তেল নিতে হবে?’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তেল নিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন/ছবি: জাগো নিউজ

হাবিবুল বাশার একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে প্রতিদিন উত্তরায় মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন। মোটরসাইকেলের তেল গতকাল শেষ হলেও বৃষ্টির কারণে পাম্প থেকে তেল নিতে পারেননি। আজ সকাল ৮টা থেকে দাঁড়ান লাইনে। অফিস ৯টা থেকে শুরু হলেও সাড়ে ৯টা পর্যন্তও পাম্পের তেল পাননি বাশার।

মোটরসাইকেল ঠেলে আসতে দেখা যায় রাইড শেয়ারিংয়ের চালক আফজাল হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এভাবে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমে এভাবে আর কতদিন...।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর পাম্পগুলো বেশ কয়েকদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছে না। এমন অবস্থায় ডিপো থেকে যতটুকু জ্বালানি আসছে তা নিতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গাড়ির চালকরা আগেভাগেই ভিড় করছেন পাম্পে। ছুটি বা কর্মদিবস- কোনো দিনই সেখানে ফাঁকা থাকছে না।

jagonews24

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের সিরিয়াল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পার হয়েছে। আর প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসের সিরিয়াল জাহাঙ্গীরগেট পুলিশ বক্স পর্যন্ত ছাড়িয়েছে।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাখালীমুখী এবং মেঘনা ফিলিং স্টেশন এলাকায় শাহবাগ মোড়মুখী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। মহাখালী ক্রিসেন্ট ফুয়েল স্টেশন বন্ধ দেখা যায়। গুলশান ফুয়েল স্টেশনে তেল দিচ্ছে ৫০০ টাকা করে।

jagonews24

এছাড়া, আসাদগেট এলাকার তালুকদার পাম্প থেকে তেল নিতে গণভবন হয়ে জিয়া উদ্যানমুখী সড়কে এবং সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে টাউনহলমুখী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে।

জ্বালানি তেল নিতে আসা অনেকেরই প্রশ্ন, এভাবে দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গরমে কষ্ট করে আর কতদিন তেল নিতে হবে।

jagonews24

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল সংকট সরবরাহের ঘাটতি নয়, বরং বাজারে আতঙ্ক ও অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা বৃদ্ধি। ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ রাখা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

টিটি/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।