সন্তান বইয়ে আগ্রহ পায় না? জোর না করে এই কৌশলগুলো কাজে লাগান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০২ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিশুকে একা বই ধরিয়ে না দিয়ে পাশে বসে পড়ুন। গল্প পড়ে শোনান, প্রশ্ন করুন, চরিত্র নিয়ে কথা বলুন। ছবি/সংগৃহীত

ইদানিং অনেক অভিভাবকেরই অভিযোগ - সন্তান বইয়ের প্রতি কোনো আগ্রহ পায় না। এই অবস্থায় অনেকেই বকা দেন, জোর করেন বা বইকে শাস্তির মতো করে তোলেন। কিন্তু এতে সমস্যা কমে না, বরং বইয়ের প্রতি অনীহা আরও বেড়ে যায়।

শিশুকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করতে জোর নয়, দরকার কার্যকরী কৌশল। কিছু সহজ পরিবর্তনেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে পারে শিশুর পড়ার অভ্যাস -

১. বইকে কাজ নয়, আনন্দ বানান
শিশু যদি মনে করে বই পড়া মানে বাধ্যতামূলক কাজ, তাহলে সে এড়িয়ে চলবেই। গল্প, ছবি বা মজার তথ্য দিয়ে বইকে আনন্দের উৎস বানাতে হবে।

সন্তান বইয়ে আগ্রহ পায় না? জোর না করে এই কৌশলগুলো কাজে লাগান

২. বয়স ও আগ্রহ অনুযায়ী বই দিন
সব শিশু এক রকম বই পছন্দ করবে না, এটাই স্বাভাবিক। কেউ গল্প পছন্দ করে, কেউ ছবি, কেউ আবার তথ্যভিত্তিক বই। তার আগ্রহ বুঝে বই নির্বাচন করলে পড়ার প্রতি স্বাভাবিক টান তৈরি হয়।

৩. একসঙ্গে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
শিশুকে একা বই ধরিয়ে না দিয়ে পাশে বসে পড়ুন। গল্প পড়ে শোনান, প্রশ্ন করুন, চরিত্র নিয়ে কথা বলুন - এতে বই পড়া একটি শেয়ারড্ একপেরিয়েন্স তৈরি হয়।

সন্তান বইয়ে আগ্রহ পায় না? জোর না করে এই কৌশলগুলো কাজে লাগান

৪. ছোট সময় দিয়ে শুরু করুন
শুরুতেই দীর্ঘ সময় পড়তে বসালে শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়বে। প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট করে পড়া শুরু করুন, পরে সময় বাড়ান।

৫. স্ক্রিন টাইম কমান ধীরে ধীরে
মোবাইল বা টিভির আকর্ষণ বেশি থাকলে বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় না। তাই হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে বইয়ের দিকে মনোযোগ বাড়ান।

সন্তান বইয়ে আগ্রহ পায় না? জোর না করে এই কৌশলগুলো কাজে লাগান

৬. বই চোখের সামনে রাখুন
ঘরের এমন জায়গায় বই রাখুন, যেখানে শিশুর সহজে নজরে পড়ে। রঙিন, আকর্ষণীয় বই হলে সে নিজে থেকেই হাতে নিতে চাইবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারে নিয়মিত বই পড়ার পরিবেশ থাকে, সেখানে শিশুর ভাষা দক্ষতা, মনোযোগ ও কল্পনাশক্তি দ্রুত বিকশিত হয়। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের মতে, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে পরিচয় শিশুদের মস্তিষ্কের নিউরাল সংযোগ শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড জানিয়েছে, শিশু যখন গল্প শোনে বা পড়ে, তখন তার মস্তিষ্কের ভাষা, আবেগ ও স্মৃতির অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়। ফলে শুধু পড়ার দক্ষতাই নয়, তার চিন্তাভাবনা ও আচরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সূত্র: আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, ইউনিসেফ, প্যারেন্টস ডটকম

এএমপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।