প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম/ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনটি আন্দোলনের ট্রফি বিএনপির ঘরে বলে দাবি করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং জুলাই-আগস্ট; তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই আমাদের ঘরে। এরকম ট্রফি শুধু বিএনপির ঘরে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে, কিন্তু জুলাই-আগস্টের ট্রফি তাদের ঘরে নেই। বিরোধীদলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবে, কিন্তু ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে না।

এসময় বিরোধীদলীয় নেতারা হইচই করেন। তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলের এমপিরা হইচই করতে পারেন। তারা নব্বইয়ের কথা বলতে পারেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ঢাকঢোল পিটিয়ে তারাই আওয়ামী লীগের নির্বাচনে গিয়েছিলেন, আমরা যাইনি।

তিনি বলেন, এনসিপির এক নেতা বাইরে বলেছিলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা খেলেছে, আর ট্রফি বিএনপি নিয়েছি।

এসময় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা হইচই করলে স্পিকার বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যরা বক্তাকে কোনো বাধা দেবেন না। আপনারাও আপনাদের বক্তব্যে উপস্থাপন করতে পারেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আমরা সবাই ছিলাম। ট্রফি আমরা কারও কাছে নিয়ে যাইনি। ক্যাপ্টেন কে? সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস চেনেন। এ কারণে উনি লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসছেন। এতে প্রমাণিত হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে মূল ভূমিকা কোন দলের ছিল, কোন নেতার ছিল।

তিনি বলেন, আমরা সবাই আন্দোলন করেছি, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু ক্যাপ্টেন একজনই থাকেন, সে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন বলেই দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাকে দেখলে এখানে অনেকের ভালো লাগবে, কারও কারও ভালো লাগবে না। কিন্তু আপনি ১৯৭১ সালকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই ক্রেডিট বিএনপির, কারণ স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান।

সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেটি বিরোধীদলের বেঞ্চের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এসময় বিরোধীদলের সদস্যরা আবার হইচই করেন। তখন স্পিকার বলেন, বিরোধীদলের বেঞ্চেও বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেও দেখেছি, গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৩) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

বিরোধীদলের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিরোধীদলের (২০০১ সালের সরকার) এমপিদের গাড়িতে পতাকা দিয়ে দায়মুক্তি দিয়ে সরকারের অংশ করে জাতির কাছে সম্মানিত করেছেন। সে কথা তো একবারও বলেন না।

সবার আন্দোলনের ফসল বর্তমান সংসদ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরাও আন্দোলন করেছি, আপনারাও আন্দোলন করেছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের পরে আপনাদের আর খুঁজে পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চারদলীয় জোট, ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে ছিলাম। একে অপরকে কিন্তু বহুভাবে চিনি। একই মিটিংয়ে বসে আন্দোলন, লড়াই করেছি, সমাবেশ করেছি। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে আপনারা গুপ্ত হয়ে জুলাই-আগস্টের পরে প্রকাশ্য এসে জাতির সামনে বারবার জুলাই-আগস্টকে ধারণ করে ভুল বোঝাতে চাচ্ছেন। আপনারা জুলাই-আগস্টকে এমনভাবে ধারণ করতে চান মনে হয় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়নি। যদিও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বর্তমান বিরোধীদলের নেতা শফিকুর রহমানসহ জামায়াতের নেতারা বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন।

সরকার পরিচালনায় বিরোধীদলের সহযোগিতা চান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যেন মানুষ মনে করে এক সময়কার জোটবদ্ধ বিএনপি-জামায়াত যদিও আজ আলাদা আলাদা, কিন্তু তারা আবার ভেতরে ভেতরে এক হয়ে দেশকে ভালো জায়গায়, সুন্দর জায়গায় নিয়ে গেছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা প্রথমদিনই অঙ্গীকার করেছি এই বিরোধীদল গতানুগতিক বিরোধীদল হবে না। ন্যায়সংগত সব কাজে সহযোগিতা এবং অন্যায়-জনঅধিকার হরণকারী সব পদক্ষেপে কণ্ঠ থাকবে আপসহীন।

তিনি বলেন, আজ মাননীয় সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আমাদের জেরবার (নাকাল) করে ফেলেছেন। অসংখ্য অসত্য তথ্য এখানে এসেছে। দু-একটার প্রতিবাদ আপনি (স্পিকার) নিজেও করেছেন। আমাদের দাবি, অসত্য কোনো তথ্য যেন সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন। অসত্য তথ্য এক্সপাঞ্চ করার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

পরে স্পিকার বলেন, আমি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবো। সেখানে কোনো অসংসদীয় এবং অসত্য তথ্য থাকলে এক্সপাঞ্চ করা হবে।

এনওএস/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।