ব্যাংক নিয়ে এমপি সাইফুল
অর্থমন্ত্রীর খুলে দেওয়া জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে
সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন পাস হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর খুলে দেওয়া জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে সাইফুল আলম বলেন, ‘গণমাধ্যমে এসেছে যে ইসলামী ব্যাংক থেকে একদিনে ৭০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনদিনের টাকা জমা ও উঠানোর যে প্রতিবেদন, তাতে এটা নেগেটিভের দিকে যাচ্ছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের সবগুলো বেসরকারি ইসলামি ব্যাংকে লুটপাট করা হয়েছে। সেই লুটপাট করেছে এস আলম ও তার দোসররা। ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কথায় জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, সেই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে।’
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই ব্যাংককে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংকের গ্রাহক ছিল এক কোটি ২০ লাখের মতো। একটি বেসরকারি ব্যাংকের এত সংখ্যক গ্রাহক আমাদের জন্য সুখবর ছিল। আজ যদি ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়ে, তাহলে দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত আসবে।’
বাতিল ও স্থগিত অধ্যাদেশ
জামায়াতের সংসদ সদস্য বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫; যা এই দেশের মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ হতে পারতো, এই সংসদ তা অনুমোদন না করে লুপ্ত করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আইন বাতিলের বিষয় নয়, এটি আমাদের আবার একটি পুরোনো অকার্যকর ও জবাবদিহিবিহীন কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।’
‘আমরা দেখেছি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বিচার বিভাগকে আবার সেই পুরোনো দলীয় প্রভাবশালী কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যে কাঠামো গত ১৭ বছর ধরে এদেশ দেখেছে এবং কীভাবে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিচার ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা দেখেছি একজন প্রধান বিচারপতি স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার কারণে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং করুণভাবে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ বাস্তবতায় বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল,’ যোগ করেন তিনি।
সাইফুল আলম বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার এবং একটি শক্তিশালী স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য আন্দোলন
দলের আরেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ‘জাতি জামায়াতে ইসলামীকে এবারের নির্বাচনে আনুপাতিক ভোটের সংখ্যার দিক থেকে স্বীকৃতি দিয়েছে যে আমরা দেশপ্রেমিক।’
তিনি দাবি করে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে, যেখানে গণতন্ত্র নষ্যাৎ হয়েছে সেখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, তখনকার জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল। শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য সব থেকে বেশি অর্থের জোগান দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।’
‘কেবল আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমিরে জামায়াত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আদায়ের জন্য ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল, সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ,’ যোগ করেন শাহজাহান চৌধুরী।
এমওএস/একিউএফ