‘দেশে পেশাগত রোগে ৮৮ শতাংশ মানুষ মারা যান’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সেমিনারে পেশাগত কারণে মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন বক্তারা

দেশে প্রতিবছর পেশাগত কারণে যত মানুষ মারা যান তার ৮৮ শতাংশেরই মৃত্যু হয় বিভিন্ন পেশাগত রোগে আক্রান্ত হয়ে। ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন তথ্য দিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন।

রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যচর্চা উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এই সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন তার বক্তব্যে পেশাগত স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতিবছর পেশাগত কারণে যত মানুষ মারা যান তার ৮৮ শতাংশই মারা যান পেশাগত বিভিন্ন রোগের কারণে।

তিনি এই মৃত্যুর হার কমাতে শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে অধিকতর মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, শ্রমবান্ধব আইন প্রণয়ন ও সংস্কারে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্র শুধু শারীরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং একটি মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে শক্তিশালী মেলবন্ধন তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, উৎপাদনের মূল শক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। আমাদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সেবা তাদের মাধ্যমেই আসে। তাই তাদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

তিনি বলেন, অভিজ্ঞ শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং শিল্পেরও বড় ক্ষতি। শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা উন্নত দেশ গড়ার পূর্বশর্ত। তিনি পরিদর্শন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরিদর্শকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং আদালতে ঝুলে থাকা পরিদর্শন সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন. শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথম শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রম আইনের বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরসনে সরকার শ্রমিক নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং পরিদর্শন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুছ সামাদ আল আজাদ এবং মন্ত্রণালয় ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

এমএএস/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।