ডিএসসিসিতে আধুনিক হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ এএম, ০১ মে ২০২৬
ঢাকা মহানগরীর ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’-এর আওতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
 
অনুষ্ঠানে গুলিস্তান এলাকায় ১০০ জন হকারকে রমনা ভবন সংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় পুনবার্সনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা হয়।
 
সুনির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসন ও বাজার বিন্যাস
প্রস্তাবিত নীতিমালার অধীনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত এলাকাসমূহ হলো—গুলিস্থানে রমনা ভবনের লিংক রোডে দৈনন্দিন ডে টু ডে মার্কেট, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠ- 
সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা), মতিঝিল ইসলাম চেম্বারের সামনে ও আশেপাশের এলাকায় সান্ধ্যকালীন মার্কেট (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা), রাজউক ভবনের পেছনে ডে টু ডে মার্কেট, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি ডে টু ডে মার্কেট, বায়তুল মোকাররম পূর্ব গেট সংলগ্ন লিংক রোড ডে টু ডে মার্কেট, নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এক পাশে ডে টু ডে মার্কেট, শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অভ্যন্তরে মাঠ সংলগ্ন রাস্তা ডে টু ডে মার্কেট।
jagonews24
 
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, আজ ১০০ হকারকে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক সব হকারকে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। এছাড়া, ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে।
 
তিনি বলেন, হকার বসার পরও ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৫-৬ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ঢাকা শহরে হকার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছি। এতে একদিকে যেমন নিরাপদ ও পথচারী বান্ধব ফুটপাত নিশ্চিতকরণ ও সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হবে। অন্যদিকে হকার নিবন্ধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন হবে।
 
এ উদ্যোগকে মানবিক ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হকার, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সাধারণ মানুষ সবাই মিলে সহযোগিতা করলে ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।
 
পুনর্বাসনের পর সরকার ও সিটি করপোরেশনের সব বিধিবিধান মেনে এবং বরাদ্দকৃত জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি হকারদের প্রতি আহ্বান জানান।
 
উদ্বোধনকালে জানানো হয়, খেলার মাঠ, স্কুল মাঠ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না। এছাড়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। নীতিমালা লঙঘনকারী বা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ হকারদের যে কোনো সময় উচ্ছেদের পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। এছাড়া হকারদের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর তদারকি করবে।
 
এমএমএ/এমকেআর
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।