বিশ্বজুড়ে মে দিবসের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ০২ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহান মে দিবস উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা, হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। সংগঠনটির মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, পেনশন, চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে পরিচালিত কর্মসূচিতে দমন-পীড়ন শ্রমিক অধিকারের পরিপন্থি।

শুক্রবার (২ মে) সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ, ছাঁটাই বন্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, বিতর্কিত শ্রম আইন বাতিল এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। তবে এসব কর্মসূচির সময় বিভিন্ন দেশে প্রশাসনিক বাধা ও দমনমূলক আচরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ‘মে ডে স্ট্রং’ জোটের উদ্যোগে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ স্থানে একযোগে কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে শ্রমিকরা আগ্রাসী যুদ্ধনীতি, অভিবাসীবিরোধী নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘ইকোনমিক ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচিও পালন করেন।

তারা বলেন, ম্যানহাটনে শ্রমিক সমাবেশ চলাকালে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। একইভাবে মিনিয়াপোলিসে শ্রমিক অবরোধ চলাকালে ছয়জনকে আটক করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নিউ অরলিন্সের ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের নার্সরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পাঁচ দিনের কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

ফ্রান্সের শতাধিক শহরে মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। লিয়নে পুলিশ শ্রমিক সমাবেশে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া পর্তুগালেও ব্যাপক শ্রমিক অংশগ্রহণে মে দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৩ জুন সাধারণ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।

অন্যদিকে তুরস্কের তাকসিম স্কয়ারে মে দিবসের কর্মসূচিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়ে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, চিলি, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন-সহ বিভিন্ন দেশেও শ্রমিক কর্মসূচিতে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ম্যানিলায় হাজারো শ্রমিক মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধনীতি ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে মিছিল অগ্রসর হলে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

নেতারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের এ ধরনের আন্দোলন প্রমাণ করে যে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম আরও জোরদার হচ্ছে।

১৮৮৬ সালের হে মার্কেট আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং মজুরি দাসত্বের অবসানে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণিকে সংগ্রাম আরও বেগবান করার আহ্বান জানান তারা।

এমডিএএ/এমএএইচ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।