ট্রাফিক লঙ্ঘন

সিসি ক্যামেরায় শনাক্ত, ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থায় যাচ্ছে নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
ডিএমপি সম্প্রতি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এআইসহ উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে/ফাইল ছবি

রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে ই-প্রসিকিউশন বা মামলা কার্যক্রম জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি বলছে, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে ভিডিও মামলার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মামলার নোটিশ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া (সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা) বাস্তবায়নের কার্যক্রম সম্প্রতি নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যানবাহন চালকদের সতর্কতা করে রোববার (৩ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরে চলাচলরত সব যানবাহনের মালিক ও চালকদের উদ্দেশে গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলরত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও উন্নত নাগরিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম চলছে।

এ ক্ষেত্রে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়‍্যারের মাধ্যমে মালিক বা চালকদের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। এই নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করছেন।

গণবিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, নোটিশ পাওয়ার পরও মালিক বা চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কার্যক্রম সম্প্রতি নেওয়া হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে মামলার জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। কোনো ব্যক্তি বা অসাধু চক্র ভিডিও বা সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা দিলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে কাছের থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধও জানানো হয় গণবিজ্ঞপ্তিতে।

উল্লেখ, ডিএমপি সম্প্রতি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এআইসহ উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিগন্যাল বা ক্রসিংয়ে লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, অবৈধ পার্কিং, বামের লেন ব্লক ইত্যাদি কারণে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা শুরু হয়েছে।

কেআর/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।