প্রাথমিকে ১৪৩৮৪ শিক্ষকের যোগদানে শর্ত কী, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে তারা ঝুলে আছেন। নিয়োগপত্র হাতে পাচ্ছেন না, পারছেন না যোগদান করতেও।
এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে গত সপ্তাহে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তবে কী সেই শর্ত তা খোলাসা না করায় ধোঁয়াশায় রয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। অবশেষে সেই শর্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘তাদের (সুপারিশপ্রাপ্তরা) সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের যে কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাতে তারা যোগ্য কি না, কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটা দেখা হবে। শর্ত কী হবে...ধরুন, তারা তো যোগদানের পর পিটিআইতে ট্রেনিং নেবে। সেখানে যদি তারা ফেল করে, তাহলে তো আর শিক্ষক হতে পারবে না। তখন বাদ পড়বে।
আরও পড়ুন
প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বে না
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তাছাড়া সরকারি বিধিতে যেটা আছে যে, চাকরিতে যোগদানের পর তারা সাকসেসফুলি (সফলভাবে) যদি দুই বছর পার করতে পারে, তাহলে তাদের রাখবো, পারমানেন্ট করবো। সবকিছুই করা হবে দেশের শিক্ষার স্বার্থে। আমরা সবাই চাই যোগ্য শিক্ষকরা নিয়োগ পাক, আমাদের সন্তানদের পড়াক।’
কবে যোগদান, কী বলছেন মন্ত্রী
শর্তসাপেক্ষে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদান করানো হবে। কিন্তু সেটা কবে, আর কতদিন সময় লাগব—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেখুন সংখ্যাটা কিন্তু ১৪ হাজারের বেশি। এ সহকারী শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে, অনেক প্রশ্ন রয়েছে৷ তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবে।
কবে নাগাদ যোগদান হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খুব শিগগির। সচিবালয়ে গিয়ে ফাইল খুলে দেখে এটা বলা যাবে। কি কি প্রসিডিউর বাকি আছে, সেটা দেখতে হবে। প্রসিডিউর শেষ হলেই যোগদান করানো হবে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়। অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যোগদানের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ/প্রত্যয়ন ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত ১ মার্চের মধ্যেই তাদের সব কার্যক্রম শেষ। তারপরও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা যোগদান করতে পারছেন না।
এএএইচ/এমকেআর