মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ০৩ মে ২০২৬
চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে/ফাইল ছবি

চলতি মে মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এছাড়া, একই সময়ে দেশে এক থেকে তিনটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে একটি তীব্র হতে পারে।

রোববার (৩ মে) দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর জানায়, দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভা আজ ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। কমিটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অনুমোদিত বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত মডেল পূর্বাভাস, আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষিত আবহাওয়ার মানচিত্র, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনোর অবস্থা ইত্যাদি যথাযথ বিশ্লেষণ করে মে মাসের পূর্বাভাস জানিয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে শিলাসহ পাঁচ থেকে আটদিন হালকা বা মাঝারি, যার মধ্যে দু-তিনদিন কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মাসে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে।

যেমন ছিল এপ্রিলের আবহাওয়া

বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় গত এপ্রিল মাসের আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচিত হয়। এতে দেখা যায়, এসময় সারাদেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি (+৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং বাকি বিভাগগুলোতে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগ ঘটায় ৬ থেকে ৯ এবং ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং মাসের অধিকাংশ দিন দেশের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিপাত হয়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত ও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এসময় সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কিশোরগঞ্জের নিকলিতে রেকর্ড করা হয় ২৮ এপ্রিল।

এছাড়া, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় তাপীয় লঘুচাপ অবস্থান করায় দেশের অনেক অঞ্চলের ওপর দিয়ে ১ থেকে ৪, ১২ থেকে ১৫, ১৭ থেকে ১৯ ও ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।

এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাজশাহীতে এবং ১০ তারিখ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাঙ্গামাটিতে রেকর্ড করা হয়। তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়, কৃষি আবহাওয়া এবং দেশের নদ-নদীর অবস্থা এসময় পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল।

একিউএফ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।