শেখ হাসিনার লকার
অগ্রণী ব্যাংকের ১৮ বছরের কর্মকর্তাদের নথি তলব দুদকের
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখায় ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়কালে কর্মরত শাখা ব্যবস্থাপক ও লকার ইনচার্জদের নাম, পদবি, কর্মস্থল, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে আগামী ৬ মে’র মধ্যে এসব তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর পুনঃযাচাই এবং ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব নথি প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
অগ্রণী ব্যাংকে শেখ হাসিনার দুই লকারে পাওয়া গেল ৮৩২.৫ ভরি সোনা
শেখ হাসিনার লকারে ছিল সোনার নৌকা-হরিণসহ বিভিন্ন গহনা
এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংকের বুলিয়ন শাখার স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ, এনবিআরের কর গোয়েন্দা ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট লকারগুলো খোলা হয়। ওই তল্লাশিতে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার দুটি লকার থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি বা প্রায় ৯ কেজি ৭১৬ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে শেখ হাসিনা পূবালী ব্যাংকের একটি এবং অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকারের ঘোষণা দেন। পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার তিনটি লকার খোলা হয়।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, পূবালী ব্যাংকের ১২৮ নম্বর লকারে একটি খালি পাটের ব্যাগ; অগ্রণী ব্যাংকের ৭৫১/বড়/১৯৬ লকারে (শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর নামে) ৪,৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার; অগ্রণী ব্যাংকের ৭৫৩/বড়/২০০ লকারে (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এর নামে) ৪,৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত সব মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরি করে সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এসব সম্পদ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয় ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মতিঝিলে পূবালী ব্যাংকের সেনা কল্যাণ ভবন শাখায় থাকা একটি লকার জব্দ করে সিআইসি। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান। ক্ষমতার পালাবদলের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, তার পুত্র-কন্যা এবং বোন শেখ রেহানা, তার পুত্র-কন্যা ও দেবর–অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও রেহানা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শেখ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা, অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে দুদক। এই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অন্তত ১৫টি মামলা করেছে সংস্থাটি।
এসএম/ইএ