আসামে বিজেপির হ্যাটট্রিক, বিপুল ব্যবধানে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ০৪ মে ২০২৬
আসাম বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হওয়ার পর উদযাপন করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা/ ছবি: এএফপি

টানা তৃতীয়বারের মতো আসামে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যের ১২৬ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৭৬টি আসন। জয় ও এগিয়ে থাকার প্রবণতা বলছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর ঝুলিতে অন্তত ৮২টি আসতে চলেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জিততে চলেছে ২২টিতে। আর সাবেক সংসদ সদস্য বদরুদ্দিন আজমলের দল এআইইউডিএফ দুটি আসন পেতে চলেছে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জালুকবাড়ি কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগৈ যোরহাট আসনে হেরেছেন। এবার তাকেই অঘোষিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিল কংগ্রেস।

বিজেপি একাই ৮২টি আসনে জিততে চলছে। শতাংশের হিসাবে ৩৮ ভাগেরও বেশি ভোট পেয়েছে তারা। কংগ্রেস এককভাবে সাড়ে ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৯টিতে জিততে চলেছে।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পুরোনো সহযোগী আসাম গণ পরিষদ (আগপ), বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের (বিপিএফ) পাশাপাশি রাভা-হাজং স্বশাসিত পরিষদের ক্ষমতাসীন দল রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চের সঙ্গে জোট গড়েছিল বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘আসাম সম্মিলিত মোর্চা’য় ছিল সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নেতা অখিল গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন রাইজর দল, সাবেক অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) নেতাদের দল ‘আসাম জাতীয় পরিষদ’ (এজেপি), জনজাতি সংগঠন অল পার্টি হিল লিডারস কনফারেন্স ও সিপিএম, সিপিআইএমএলের (লিবারেশন) মতো বামপন্থি দল। তৃণমূল আলাদাভাবে ২৩টি আসনে লড়েছে এবার। এছাড়া ছিল বাংলাভাষী সংখ্যালঘুদের মধ্যে প্রভাবশালী নেতা বদরুদ্দিন আজমলের দল ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট’ (এআইইউডিএফ)।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস জোট বেঁধেছিল বদরুদ্দিনের দল এআইইউডিএফের সঙ্গে। লক্ষ্য ছিল, বরাক উপত্যকা ও নিম্ন আসামে সংখ্যালঘু ভোট বিভাজন এড়ানো। কিন্তু অনেকের মতে, এর ফলে উজান আসামে মেরূকরণের রাজনীতি করতে সুবিধা হয়ে গিয়েছিল বিজেপির।

আসাম গণ পরিষদের সঙ্গে জোট বাঁধায় ঐতিহ্যগতভাবে ‘কংগ্রেস বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত অহমিয়া ভোটের বড় অংশ পদ্মের ঝুলিতে এসেছিল। পাশাপাশি, কংগ্রেসের ‘চিরাচরিত ভোটব্যাংক’ হিসাবে পরিচিত ‘আলি-কুলি-বাঙালি’ সমীকরণেও ভাঙন ধরেছিল। নিম্ন আসামে বাংলাভাষী মুসলিম ভোটের বড় অংশ কংগ্রেস-এআইইউডিএফ জোট পেলেও বরাক উপত্যকায় বাঙালি ভোট গিয়েছিল বিজেপিতে। সেই সঙ্গে ‘কুলি’ হিসাবে পরিচিত চা-শ্রমিক ভোটও।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছিল, সেই ক্ষত মেরামত করতে পারেনি রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খাড়গের দল। বরং আসামে চা চাষের ইতিহাসে প্রথমবার শ্রমিকদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দিয়ে বাজিমাতে অনেকটাই সফল বিজেপি। শ্রমিক কলোনির ভিতরে হয়েছে পাকা হয়েছে রাস্তা, হয়েছে পাকা বাড়ি।

নির্বাচনের আগে চা-শ্রমিকদের মজুরিও ৩০ টাকা বাড়িয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের সরকার। যা বারবার এসেছিল প্রচারণায়। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের নেতৃত্বে লড়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিজেপি। তবে জেতার পরে সর্বানন্দের ওপর ভরসা রাখতে না পেরে কংগ্রেস-ত্যাগী হিমন্তের হাতে দিসপুরের কুরসি সঁপে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা।

গত পাঁচ বছরে দুটি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন হিমন্ত। প্রথমত, কংগ্রেস ভাঙিয়ে তার প্রাক্তন সতীর্থদের বিজেপিতে আনা। দ্বিতীয়ত, বুলডোজার চালিয়ে সরকারি জমি থেকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের অবৈধ দখলদারি’ উচ্ছেদ। রাজ্য কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ভূপেন বরা, প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের মতো নেতাদের সরাসরি টিকিট দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, কংগ্রেসত্যাগী কয়েকজন সংখ্যালঘু বিধায়ক ও নেতাকে সহযোগী আগপর টিকিট পাওয়ার বন্দোবস্তও করে দিয়েছেন। ভোটের ফল বলছে, তাদের অধিকাংশই জিতেছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।